যশোরের অভয়নগরে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং বালুতে পুঁতে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই দফায় ৪ কোটি টাকা আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির (পদস্থগিত) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি এবং নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী মোছা. আসমা খাতুন জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর টিপুকে কৌশলে ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রথম দফায় ২ কোটি টাকা আদায় করা হয়। ওই টাকা তাৎক্ষণিকভাবে সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে আসাদুজ্জামান জনির প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে RTGS-এর মাধ্যমে পাঠানো হয়। এরপর টিপুকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে, ১৮ সেপ্টেম্বর টিপুকে ফের অপহরণ করে ‘কনা ইকো পার্ক’-এ নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করে বুক পর্যন্ত বালু চাপা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করা হয়। বাধ্য হয়ে টিপু তার ম্যানেজারকে ফোন করে ৬৮ লাখ টাকা পূবালী ব্যাংক এবং ৩২ লাখ টাকা সাউথ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে মফিজুর রহমানের একাউন্টে পাঠাতে বলেন। পাশাপাশি ১ কোটি টাকার একটি চেক এবং ৬টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ৩০ জুলাই অভয়নগর থানা এবং ৩১ জুলাই আর্মি ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করা হলেও থানা এখনো অভিযোগ গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত জনি ও মফিজুর রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, “জনি এখন আমাদের কেউ না। সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপে আগেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে কোনো দায় নেওয়া হবে না।”
অভয়নগর থানার ওসি জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।