শনিবার, ০২ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদন কৃষি খাতের এক বিশাল সম্ভাবনা

লালমনিরহাট, বাংলাদেশের একটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলা, যা তার উর্বর মাটি এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। পেঁয়াজ শুধু বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  চারা গাছ লাগানোর ১০০-১১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ ঘরে তোলা যায় […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২০ জানুয়ারী ২০২৫, ০০:২৫

লালমনিরহাট, বাংলাদেশের একটি উত্তরাঞ্চলীয় জেলা, যা তার উর্বর মাটি এবং কৃষি উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। পেঁয়াজ শুধু বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই নয়, বরং দেশের অর্থনীতিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। 

চারা গাছ লাগানোর ১০০-১১০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ ঘরে তোলা যায় । প্রতি হেক্টর জমিতে ১১ থেকে ১৩ মেট্রিক টন পেয়াঁজ উৎপাদন হয়। এই জাতের এক একটি পেঁয়াজের ওজন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। আজকের বাজার মূল্যে হিসাব করলে প্রতি মন পেঁয়াজে সকল খরচ বাদ দিয়ে গতবছরের তুলনায় ২৫ টাকা অতিরিক্ত লাভ হয়। 

দেশে ৩.৩৬ লক্ষ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসলের উৎপাদন ছিল ৬.০০ লক্ষ মেঃ টন কিন্তু বর্তমানে ৬.২৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন হচ্ছে ৫৬.৯৩ লক্ষ মেঃ টন। ২০১৫ সাল থেকে তুলনামূলকভাবে মসলা ফসলের মোট উৎপাদন বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১১.৯৮ গুন।

পেঁয়াজের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা: পেঁয়াজ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মসলা ফসল। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পেঁয়াজের চাহিদা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উৎপাদনকারীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদন চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে।

উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা: লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত জলবায়ু এবং মাটি রয়েছে। এখানে বেশিরভাগ কৃষক পেঁয়াজ চাষে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। পেঁয়াজ চাষের প্রধান এলাকা হিসেবে লালমনিরহাটের বেশ কিছু উপজেলায় পেঁয়াজের উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কালীগঞ্জ, আদিতমারী, হাতীবান্ধা এবং পাটগ্রাম উপজেলায় পেঁয়াজ চাষ ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

প্রতি বছর লালমনিরহাটে প্রায় হাজার হাজার একর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়। স্থানীয় কৃষকরা সাধারণত দুই প্রকারের পেঁয়াজ চাষ করে থাকেন: মৌসুমী পেঁয়াজ এবং বর্ষার পেঁয়াজ। মৌসুমী পেঁয়াজ সাধারণত শীতকালে চাষ করা হয় এবং বর্ষার পেঁয়াজ বর্ষাকালে। এই দুই ধরনের পেঁয়াজই বাজারে উচ্চ চাহিদা পূরণ করে।

চ্যালেঞ্জ: পেঁয়াজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে লালমনিরহাটে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য অসুবিধার সৃষ্টি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু চ্যালেঞ্জ হলো:

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বন্যা, খরা, ঝড় ইত্যাদি পেঁয়াজের ফসলের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বন্যা পেঁয়াজ ক্ষেত্রের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

২. বীজের সংকট: উন্নতমানের বীজের অভাব পেঁয়াজ উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। অনেক সময় কৃষকদের উন্নত মানের বীজ সংগ্রহ করতে অসুবিধা হয়, যা ফলনের পরিমাণ এবং গুণগত মানে প্রভাব ফেলে।

৩. রোগবালাই: পেঁয়াজ ফসলের রোগবালাই একটি সাধারণ সমস্যা। বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ পেঁয়াজের ফসলের ক্ষতি করতে পারে, যা ফলন হ্রাসের কারণ হতে পারে।

৪. সংরক্ষণ ও বিপণন: পেঁয়াজ সংগ্রহের পর সংরক্ষণ ও বিপণন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও, বাজারজাত করার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার অভাব একটি বড় সমস্যা।

সম্ভাবনা: যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদনে বেশ কিছু সম্ভাবনাও রয়েছে। নিম্নে কয়েকটি সম্ভাবনার দিক উল্লেখ করা হলো:

১. উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ: উন্নত কৃষি প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব। কৃষকদেরকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে এ লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা যেতে পারে।

২. সংরক্ষণ প্রযুক্তি: পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পচন কমানো সম্ভব। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদাম এবং সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে পেঁয়াজের দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায়।

৩. বিপণন নেটওয়ার্ক: উন্নত বিপণন নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পেঁয়াজের বাজারজাতকরণ সহজ করা যেতে পারে। কৃষকদের জন্য সরাসরি বাজার সংযোগ তৈরি করে এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি করা যায়।

৪. সহায়তা এবং ঋণ সুবিধা: সরকার এবং ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে। এতে করে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

লালমনিরহাটে পেঁয়াজ উৎপাদন কৃষি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে সঠিক পদক্ষেপ এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের সমর্থন এবং সঠিক সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করা সম্ভব। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।