ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে এটি অন্যতম উদ্বেগজনক ঘটনা। এই হামলার মাধ্যমে পরাজিত শক্তি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং বাংলাদেশের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের অপশক্তির আঘাত কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না এবং যেকোনো মূল্যে এসব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এই হামলার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বানচাল করার চেষ্টা চলছে। তবে যত ঝড়-তুফানই আসুক, কোনো শক্তিই আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। দেশের আপামর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বৈঠকে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী মো. সায়েদুর রহমান জানান, ওসমান হাদির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ইতোমধ্যে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, যে করেই হোক দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলায় জড়িত ব্যক্তি ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীর কাছে ওসমান হাদির দ্রুত আরোগ্যের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার আহ্বান জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে বৈঠকে জানানো হয়, হামলার স্থানের সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। সীমান্তে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হামলাকারীরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন—এমন ব্যক্তিরা যারা সম্ভাব্য টার্গেটে পরিণত হতে পারেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের আশ্রয়স্থলগুলোতে অভিযান জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শিগগিরই দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা।