সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মানি লন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায়।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মোতাল্লেছ হোসেন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বেগম খালেদা জিয়ার লিয়াজোঁ অফিসার পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মোতাল্লেছ হোসেনের নামে খোলা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি এম এল ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। যদিও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে, তবুও কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমের প্রমাণ মেলেনি।
প্রতারণার অংশ হিসেবে কখনো নিজেকে পোশাক কারখানার মালিক, কখনো চা-বাগান উদ্যোক্তা কিংবা ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে তিনি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন। পরে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে বিএনপি–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন।
সিআইডি জানিয়েছে, আদালতের আদেশে মোতাল্লেছ হোসেনের বিভিন্ন হিসাবে থাকা পাঁচ কোটি টাকার বেশি অর্থ ইতোমধ্যেই জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত রোববার বিকেলে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা (নম্বর–১৯) দায়ের করা হয়। মামলায় মোতাল্লেছ হোসেন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।