আক্কাছ আলী, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের রাজদিয়া অভয় পাইলট হাই স্কুলের অধ্যক্ষ বিরুদ্ধে উঠা নানা অনিয়মের অভিযোগ ৮মাস ধরে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। গতবছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বিশ^জিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম
ও দুর্নীতি অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর তদন্তের জন্য লিখিত দাবি করে প্রাক্তন ছাত্র ও স্থানীয়রা। যা তদন্তের দায়িত্বে ছিলো মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, তবে সে বিষয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ হয়নি দাবি করে ক্ষোভে ফুসছেন স্থানীয়র।
স্থানীয়রাদের অভিযোগে, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই তদন্ত ফাইল লাল ফিতায় বন্দি রেখেছে বিশ্বজিৎ ঘোষ, সেই সাথে আছেন বহাল তবিয়তে।
জানাযায়, ২০২৪সালের ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা নিবাহী অফিসার বরাবর রাজদিয়া অভয় পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্দের আবেদন করা হয়।
এত বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দলীয় করন, পুরাতন ভবন বিক্রির পুরো টাকা জমা না দেওয়া, পরিক্ষা ছাড়া লোক নিয়োগ, টেন্ডার আহ্বানে ছলচাতুরী সহ বিশ্বজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করা হয়। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় তার অপকর্মের নিউজ প্রকাশিত হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি অধ্যক্ষের অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি, শিক্ষার মান নিন্মমুখী। মান উন্নয়নে তাকে অপসারণের দাবি তোলা হয় আবেদনে।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ শিক্ষক জানান, আমাদের অধ্যক্ষের বেশ কিছু কর্মকান্ডে বিষয়ে স্থানীয় এমনকি শিক্ষকদের মধ্যেও আপত্তি রয়েছে।
বিগত সময় তার কর্মকান্ড নিয়ে সবাই অসন্তোষ ছিলো। স্থানীয়রা সেসব বিষয়ে অভিযোগ করেছে শিক্ষা অফিসে। তবে এখনো তদন্তের রিপোর্টে আসেনি।
গ্রামবাসীর পক্ষে শিক্ষা অফিসে অভিযোগকারী শেখ আনোয়ার হোসেন জানান, ৮মাস আগে অভিযোগ করলাম যেসব অভিযোগ করেছি তা সত্য। শিক্ষক আমাদের গুরুজন তবে তার অনৈতিকতার জন্য আমাদের স্কুল পড়ালেখার ধস নেমেছে।
শিক্ষা অফিস এখনো এবিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় আক্ষেপ লাগছে, গ্রামবাসীও ক্ষুব্ধ। আমার মনে হয় লবিংয়ের মাধ্যমে তদন্ত বন্ধ রেখেছে সে। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হউক।
এবিষয়ে বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে তদন্তকারীদের আমি প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র দিয়েছি। আমার কোন অনিয়ম ছিলো না।
যদি অনিয়ম পেতো তবে এতেদিনে আমার বিরুদ্ধো ব্যবস্থা নিতো। যারা অভিযোগ করছে তারা নানা উদ্দেশ্যেই করতে পারে। তবে ভবন বিক্রির টাকা আমি জমা দিয়েছি। তাদের অভিযোগ সত্য নয়।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন নাহার বলেন, তদন্ত চলছে, বেশি কিছু অভিযোগ রয়েতে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের আগে কোনটি সত্যতা পাওয়া গেলো সেগুলো বলতে পারছি না।
৮মাসেও রিপোর্ট না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক আগে অভিযোগ পেলোও অভিযোগকারীকে বিভিন্ন প্রয়োজনে সনাক্ত করা যাচ্ছে না। যদি অভিযোগকারী আসে তবে তদন্তের অগ্রগতি তরান্বিত হবে বলেও জানান তিনি।