দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিনামূল্যের সোলার সেচ পাম্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঘুষ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রায়হানুল হকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ভুক্তভোগী কৃষক ফেচিয়া গ্রামের আলাল মিয়া (৩৮) জানান, প্রকল্প অনুমোদন ও নির্মাণকাজে সহযোগিতার নামে কৃষি অফিসার রায়হানুল হক তার ভাই হাসান আলীর মাধ্যমে মোট ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কৌশলে তিন ধাপে ৫০ হাজার টাকা তিনি গ্রহণ করেছেন।
এর মধ্যে ১০ নভেম্বর সোনালী ব্যাংক পূর্বধলা শাখায় তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা জমা হওয়ার ব্যাংক স্টেটমেন্ট ভুক্তভোগীর হাতে রয়েছে। বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য তিনি চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত টিম রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি অফিসে এসে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করেন।
অভিযোগকারী হাসান আলী বলেন,
“ভারপ্রাপ্ত কৃষি অফিসার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইউনিয়ন উপ–সহকারী কৃষি অফিসারদের ওপর নানারকম চাপ সৃষ্টি করেন। তার বিরুদ্ধে শুধু ঘুষ নয়, সরকারি মোটরসাইকেল বহিরাগতকে ব্যবহার করতে দেওয়া, কৃষি ডিলারদের কাছ থেকে মাদ্রাসার নামে টাকা নেওয়ারও তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে সব অনিয়ম উদঘাটন করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কৃষি অফিসার মো. রায়হানুল হক জানান,
“আমার সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ হাজার টাকা এসেছে—এটা সত্য। কোথা থেকে এসেছে জানি না, এজন্য থানায় জিডি করেছি। সরকারি মোটরসাইকেল অন্যজন ব্যবহার করেছে—এটাও সত্য। আমার বিরুদ্ধে যে নিউজ হতে যাচ্ছে, না করলেই হয়।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম তদন্তের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“সোলার সেচ পাম্প প্রকল্পে ঘুষের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি কাজ করছে। তদন্ত শেষ হলে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।”
ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. সালমা লাইজু বলেন,
“লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।