বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বীর প্রতীক উপাধিপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন,
“ভারতের আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য ড. ইউনূস সরকারের হাতকে সবাই শক্তিশালী করবো। ভারতপ্রেমীদের ঘৃণা করবো। ফ্যাসিস্ট আর সৃষ্টি হবে না।”
এই বক্তব্য এমন এক সময় এল, যখন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে নানা বিতর্ক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ভারতের বর্তমান ভূরাজনৈতিক ভূমিকা এবং বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানের এই মন্তব্য সেই উত্তাপকেই আরও প্রজ্জ্বলিত করেছে।
প্রসঙ্গত, হাসিনুর রহমান দুইবার গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে একাধিক মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপে তিনি ফিরে এলেও, তার গুমের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যেই কথা বলেছেন।
তাঁর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে, যা দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বলয়ের বাইরেও একটি প্রতিরোধী জাতীয়তাবাদী আবেগকে স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। এই মন্তব্যে একদিকে যেমন ভারতের একচেটিয়া ভূরাজনৈতিক প্রভাবকে প্রত্যাখ্যানের সুর রয়েছে, অন্যদিকে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সম্ভাব্য হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করার রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট।
সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যে তাঁর এই পোস্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা আলোচনা ও সমর্থনসহ। একই দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চেয়ে বিএনপি এবং সরকারবিরোধী দলগুলোর সক্রিয়তা যেমন বেড়েছে, তেমনি দেশের নতুন রাজনৈতিক কাঠামো ঘিরে এক শ্রেণির সেনা ও রাষ্ট্রপতির্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের অবস্থানও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
এখন দেখার বিষয়—লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের এই অবস্থান কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি দেশের আগামী রাজনৈতিক গঠনে বাস্তব কোনও প্রভাব রাখে। তবে একথা নিশ্চিত করে বলা যায়, ভারতের আধিপত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক হিসেবে এই বার্তা নিছক আবেগ নয়, এটি ভবিষ্যতের শক্ত প্রতিরোধ রাজনীতির ভিত্তিও হতে পারে।