রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বঙ্গভবনে নয়, জেলে থাকা উচিত: বদিউল আলম মজুমদার

দেশের রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ‍চুপ্পুর এখন বঙ্গভবনে থাকার পরিবর্তে জেলখানায় থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগারিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, আমরা চোরদের ধরার ব্যাপারে কথা বলতে চাই। এস আলমের ব্যাংক লুটের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদেরও ধরতে হবে। এস আলম ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলের সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে […]

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বঙ্গভবনে নয়, জেলে থাকা উচিত: বদিউল আলম মজুমদার

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বঙ্গভবনে নয়, জেলে থাকা উচিত: বদিউল আলম মজুমদার

নিউজ ডেস্ক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২

দেশের রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ‍চুপ্পুর এখন বঙ্গভবনে থাকার পরিবর্তে জেলখানায় থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগারিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, আমরা চোরদের ধরার ব্যাপারে কথা বলতে চাই। এস আলমের ব্যাংক লুটের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদেরও ধরতে হবে। এস আলম ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলের সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে লুটের সহযোগী ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন ‍চুপ্পু। তিনি এখন আমাদের মহামান্য, আছেন বঙ্গভবনে। তার বঙ্গভবনে থাকার পরিবর্তে এখন জেলখানায় থাকা উচিত। এরকম একজন লুটেরার সহযোগী আমাদের রাষ্ট্রপতি। আমরা জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন হতে পারি কি না, মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারি কি না- সে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ : আবারো ঝুঁকির মুখে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে যদি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হয়, তাহলে মোটাদাগে তিনটি জিনিস দরকার। তা হলো- চোরদের ধরে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি দেওয়া, এগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না করতে পারে সেজন্য পদ্ধতিগত সংস্কার দরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ব্যাপারে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংকিং খাতের পুরো প্রক্রিয়া ক্যাশলেস এবং হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো বন্ধ না হলে কোনো সংস্কার কাজে আসবে না। আর বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা দরকার। স্বাধীন না থাকায় ফ্যাসিবাদের প্রধানমন্ত্রী তার আত্মীয়স্বজনদের বসিয়ে চুরি ও লুটপাট করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীন করার জন্য আমরা ঐকমত্য কমিশন থেকে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চেয়েছিলাম, যাতে তার রক্ষাকবচ তৈরি হয় এবং লুটেরা বসতে না পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে অনেক আইন আছে কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। আর আমাদের দেশে যত আইন করা হয়, সেগুলো আগের আইন থেকে অপরাধীদের বাঁচাতেই করা হয়, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য নয়। ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর ক্ষেত্রেও একই কাজ হয়েছে। সরকার আমানতকারীদের কথা না ভেবে অপরাধীদের বেইল আউট করার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের সব টাকা ফেরত দিতে বাধ্য। শুধু আমানত বীমার দুই লাখ টাকা নয়; সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিতে হবে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের নৈতিক নয়, আইনি দায়িত্ব। কারণ, প্রতিটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকই লাইসেন্স দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হলেও কার্যকর ‘এক্সিট পলিসি’ গড়ে ওঠেনি। উন্নত দেশগুলোয় লোকসানে পড়া ব্যাংক কীভাবে বাজার থেকে বের হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় অর্থ সহায়তার প্রবণতা দেখা যায়, যার দায় শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়ে।

ব্যাংক খাতে বেড়ে ওঠা খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তৌফিক আহমদ বলেন, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের আলাদা করে দেখতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বারবার ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ায় এ খাতে নতুন করে শৃঙ্খলাহীনতা তৈরি হচ্ছে। অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত না হলে কোনো আইন কার্যকর হবে না।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের (সোয়াস) অধ্যাপক ড. মুশতাক খান বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোনো ব্যাংক হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, ব্যাংকগুলো পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত। একটি ব্যাংক বন্ধ হলে এর প্রভাব অন্য সুস্থ ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যেটাকে বলা হয় ‘ব্যাংক রান’। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি না হলে দ্বিতীয় দফা ‘ব্যাংক রান’-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা পুরো খাতকে অস্থির করে তুলবে।

ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যেক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাসরুরের সঞ্চালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন- নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক একেএম ওয়ারেসুল করিম, প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সিএফএ সোসাইটির সভাপতি আসিফ খান, বাংলাদেশ থাই চেম্বারের সভাপতি ও গার্মেন্টস উদ্যোক্তা শামস মাহমুদ।

বক্তারা বলেন, সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ দেশের ব্যাংকিং খাতকে আবারও ঝুঁকির মুখে ফেলতে যাচ্ছে। এ আইনের ১৮(ক) ধারার সুযোগ নিয়ে অতীতে যারা দেশের ব্যাংকিং খাতকে পরিকল্পিতভাবে লুট করেছে, তাদের আবার মালিকানায় আসার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের সফল উদাহরণ রয়েছে। কোথাও দুর্বল ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে, কোথাও একীভূত করা হয়েছে। একাধিক দুর্বল ব্যাংক একত্র করে টেকসই সমাধান পাওয়া কঠিন, বিশেষ করে যখন ঋণ পাচারের মতো জটিল সমস্যা বিদ্যমান।

জাতীয়

সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না : এডিসি জুয়েল

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।” সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব […]

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।”

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এডিসি জুয়েল। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

এডিসি জুয়েল আরও বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে কড়া নজরদারিতে। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভাষা ব্যবহারের সমালোচনাও করছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করা এবং দুষ্কৃতকারীদের সতর্ক করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেবে না বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।