গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও পশ্চিমা সমর্থনের তীব্র সমালোচনা করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী বলেছেন,
“এই রক্তপিপাসু কর্মকাণ্ড এবং মিথ্যা ফ্রন্টের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো একটি সর্বজনীন কর্তব্য।”
বুধবার (১৫ মে) তেহরানে ইরানি ত্রাণকর্মীদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি। পার্সটুডে সূত্রে জানা গেছে, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের তথ্য ওয়েবসাইটে বৈঠকের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
খামেনেয়ী বলেন,
“গত ৪০ বছরে ইরানি জাতির নিঃস্বার্থতা ও মানবতাবাদের চেতনা অব্যাহত রয়েছে। এই চেতনার বিপরীতে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসক গোষ্ঠীর অপরাধ ও বর্বরতা এবং এর প্রতি পশ্চিমা সমর্থন।”
তিনি আরও বলেন,
“ইহুদিবাদী অপরাধীদের অ্যাম্বুলেন্স আক্রমণ, হাসপাতাল বোমা হামলা এবং অসহায় রোগী ও শিশুদের হত্যার নৃশংস আচরণ এবং চরিত্রকে সবার সামনে উন্মোচিত করতে হবে। বিশ্ব আজ এই মানুষরূপী হিংস্র প্রাণীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র তাদের বর্বরতা এবং রক্তপিপাসুতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোকে তাদের কর্তব্য বলে মনে করে।”
বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রতিবাদ করাকে একটি আন্তর্জাতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন,
“এই কর্তব্যবোধই হৃদয়ে আশার প্রদীপকে সঞ্চারিত করে এবং জ্বালিয়ে রাখে এবং অবশ্যই এটি পশ্চিমাদের মতো শত্রুদের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হতে বাধ্য করেছে। কারণ আমরা যদি তাদের বর্বরতার প্রতিবাদ করা বন্ধ করি তাহলে তারা আমাদের শত্রু থাকবে না।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন,
“কে দাবি করতে পারে এবং সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করতে পারে যে এই বর্বরতা, এই রক্তপিপাসুতার মুখে একজন মানুষের কোনো দায়িত্ব নেই? কে বলতে পারে? আমাদের সকলের কর্তব্য আছে।”
আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার সমালোচনা করে তিনি বলেন,
“ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান পশ্চিমাদের মিথ্যা সভ্যতা প্রত্যাখ্যান করার কারণে ইরানি জাতি আজ তাদের শত্রুতায় পরিণত হয়েছে। মিথ্যার পতন ও ধ্বংস অনিবার্য। অবশ্যই, এটি অর্জনের জন্য একজনকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং অধ্যবসায় করতে হবে। এ বিষয় নিরব থাকা, এ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই।”
এই বক্তব্য এমন সময় এলো যখন গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে একাধিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইরান বরাবরই এই নীতির বিরোধিতা করে আসছে এবং মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?