বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মাদরাসার দানের টাকার ভাগ দাবী – বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মাদ্রাসা কমিটির সংবাদ সম্মেলন

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের শিধুলী হাটের টাকার ভাগ চেয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলায় মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হয়ে মাদরাসা কিমিটির ৮ জন কারাগারে আছেন। কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০২:৪১

নাটোর প্রতিনিধিঃ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের শিধুলী হাটের টাকার ভাগ চেয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মাদরাসা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলায় মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হয়ে মাদরাসা কিমিটির ৮ জন কারাগারে আছেন।

কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগিদের পরিবার, মাদরাসা কমিটি ও গ্রামের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। শুক্রবার সকাল ১০ টায় ‘শিধুলী, চলনালী, পোয়ালশুড়া হযরত ওসমান (র.) হাফেজিয়া ও কওমি মাদরাসা’ প্রাঙ্গনে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, হেফাযতে ইসলামের গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক হাফেজ মাও: মো. ফরিদুল ইসলাম, ভুক্তভোগী সাহাদতের স্ত্রী রাশিদা খাতুন, লিটন হোসেনের স্ত্রী লাবনী আক্তার লাভলী, হযরত আলী, হায়দার আলী, শিক্ষানবিশ আইনজিবী মো. জার্জিস হোসেন প্রমুখ। 

সংবাদ সম্মেলনে নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাটোর-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এসময় লিখিত বক্তব্যে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগম দাবি করেন, গ্রামের মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম আর দানের অর্থে এই হাফেজিয়া মাদরাসায় এতিমদের দ্বিনী শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

শিধুলী ওই মওসুমি হাটের ব্যবসায়ীরাও সাধ্যমতো মাদরসার উন্নয়নে দান করেন। সেই দানের টাকার ভাগ চেয়েছে তার স্বামীর কাছে বার বার প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ।

প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. রুবেল হাসানকে বাদি সাজিয়ে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয় তার স্বামীসহ ৮জনকে। তার স্বামী বর্তমানে হাজতে আছেন। তিনি স্বামীসহ হাজতে থাকা ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানান।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য হযরত আলী ফকির তার বক্তব্যে বলেন, গত ২৭ রমজান মাদরাসার অফিস কক্ষে বসে বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ শিধুলী হাট থেকে মাদরাসায় ওঠা দানের অর্ধেক টাকার ভাগ চান। টাকা ভাগবাটোয়ারার বিষয়ে আব্দুল আজিজের ছেলে সোহাগ ও ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল হাসানের সাথে যোগাযোগের প্রস্তাবও দেন কমিটির কাছে। কিন্তু কমিটির লোকজন তা মানেননি।

একারণে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল আজিজ ছাত্রদল নেতাকে দিয়ে মাদরাসা কমিটির বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাজতে থাকা ৮ ব্যক্তির পরিবারের লোকজন, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ গ্রামের নানা শ্রেণিপেশার কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির দাবি নিয়ে বুধবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল শেষে গুরুদাসপুর থানার সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ওলামা পরিষদ ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

মাদরাসাটির মহতামিম মো. ফাতিহুল কবীর বলেন, শিধুলী হাটের ব্যবসায়ী পাইকাররা কিছু অর্থ মাদরাসায় দান করেন। সেই দানের টাকাতেও চোখ পড়েছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের। ভাগ না পেয়ে প্রশাসনকে প্রভাবিত করে মাদাসা পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্যকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করিয়েছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে যৌথ বাহিনী এসে মাদরাসা প্রাঙ্গন থেকে ৮ জন সম্মানী ব্যক্তিকে কথা বলার নাম করে তুলে নিয়ে যান। অথচ মাদরাসার নামে চাঁদা উত্তোলনের সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হয়। প্রশাসন একটা দলের চাপে পড়ে তড়িঘড়ি করে ছাত্রদল সভাপতি রুবেল হাসানকে দিয়ে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন। তারা মামলা প্রত্যার ও নিরাপোরাধ ব্যক্তিদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।  

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, মাদরাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন, হাজী মকবুল হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, উপজেলা ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, লিটন হোসেন, রিপন আলী, আলহাজ্ব বদিবর, ইউনিয়ন জামায়াতের সহ সেক্রেটারি মওদুদ আহম্মেদ মনি।

বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজের অনুসারি মামলার বাদি ধারাবারিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রুবেল হাসান বলেন, মাদরাসা কমিটির লোকজন রশিদের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করায় তিনি মামলা দায়ের করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নাটোর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, শিধুলী হাটের টাকা উত্তোলন নিয়ে বিএনপির সাথে মাদরাসা কমিটির কোনো দ্বন্দ্ব হয়নি। ওই মাদরাসা কিমিটির সভাপতি স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। মূলত আওয়ামী লীগের ইন্ধোনেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। মামলার বাদি ছাত্রদলেরর সভাপতি রুবেল তার অনুসারী হলেও মামলা দায়েরের বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছইু জানেন না।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।