নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় বিদ্যুতের বাণিজ্যিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়েছে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া মিটার ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশ নম্বরে টাকা দাবি করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল পৌরসদর ও নাজিরপুর এলাকায় অন্তত নয়টি বাণিজ্যিক মিটার চুরি হয়। এরপর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি বিকাশ নম্বর থেকে ৫ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে রাতের আঁধারে নির্দিষ্ট স্থানে মিটার রেখে যাওয়ার কথাও বলা হয়।
গুরুদাসপুর বাজার এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক দিলীপ মণ্ডল বলেন, মিটার চুরি হলে ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে একটি নম্বর থেকে ফোন করে টাকা দাবি করা হয়। টাকা পাঠানোর পর ময়লার স্তূপে রাখা অবস্থায় মিটার উদ্ধার করতে হয়েছে। তবে অনেকেই টাকা দিয়েও মিটার ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাজিরপুরের কৃষক জাবেদ আলী বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি হলে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এতে ফসলের ক্ষতি হয়। একটি ট্রান্সফরমার চালু করতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে এবং খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে উপজেলায় ৩৯টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, গত তিন মাসে নাজিরপুর এলাকায় ১৭টি ট্রান্সফরমার, পাঁচটি থ্রি-ফেজ বড় মিটার এবং পাঁচটি বাণিজ্যিক মিটার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–২-এর গুরুদাসপুর জোনাল কার্যালয়ের ডিজিএম মোঃ অবায়দুল আল মাসুম বলেন, চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এসব চুরি জাতীয় সম্পদের ক্ষতি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চক্রটিকে শনাক্তে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।