বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশ করা ঘিরে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির মধ্যে দু্’দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বুধবার (১১ মার্চ) মহানগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের আগে ও পরে এই সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের আগে স্টেডিয়ামের গেটে পীরগাছা থেকে আসা ২ জন […]

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

এনসিপির ইফতার মাহফিলে প্রবেশ নিয়ে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ১০

নিউজ ডেস্ক

১২ মার্চ ২০২৬, ১১:১১

রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রবেশ করা ঘিরে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির মধ্যে দু্’দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার (১১ মার্চ) মহানগরীর শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে ইফতারের আগে ও পরে এই সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের আগে স্টেডিয়ামের গেটে পীরগাছা থেকে আসা ২ জন সিনিয়র সিটিজেনকে পাশ ছাড়াই প্রবেশ করান মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন। এর প্রতিবাদে তাকে গেটেই মারধোর করেন ছাত্রশক্তির নেতারা। এই দৃশ্য দেখে জেলা যুবশক্তির সংগঠক রাশেদুজ্জামান রাশেদ প্রতিবাদ করলে তাকে বেধড়ক পেটায় ছাত্রশক্তির নেতারা। এ নিয়ে প্রথমে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

ইফতারের পর যুবশক্তির নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম থেকে প্রবেশ গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সাথে ফের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাঁধে সংঘর্ষ, শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে যুবশক্তির সংগঠক রাশেদ, সিয়াম ফকির, আকাশ ইসলাম, মুহিত হাসান মীম, সীমান্তসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় টেবিল-চেয়ার। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আাহতদের প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ, পরে কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশেদের অবস্থা আশংকাজনক। তিনি রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এনআাইসিইউতে ভর্তি আছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সার্কিট হাউজে এনসিপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বসেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মহানগর এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন বলেন, ‘ আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল পাশ কার্ড ছাড়াও যদি সিনিয়র সিটিজেন অথবা আমাদের কোন শুভাকাঙ্ক্ষী আসেন, তাহলে পরিচিতজন সার্টিফাই করলে তাকে ঢুকতে দেয়া হবে। সে হিসেবে আমি প্রবেশ গেটে এসে দেখতে পাই পীরগাছা থেকে দুজন সিনিয়র সিটিজেন এসেছেন। যারা এনসিপিকে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেন। আমি আমার পরিচয়ে তাদেরকে ভেতরে প্রবেশ করাই। কিন্তু এরপরই আমাকে মারধোর করা হলেও আমি বিষয়টি চেপে যাই। কিন্তু একটু দুরে থাকা যুবশক্তির নেতারা দৌড়ে এসে প্রতিবাদ করলে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের সাথে উত্তেজনা তৈরি হয়। তারা রাশেদকে ব্যাপক মারে। তারপর আমি বলি ইফতারের পর বিষয়টি মিমাংসা করে দিবো বলে জানাই। কিন্তু ইফতারের পর না বসতেই যুবশক্তির নেতাকর্মীরা বাইরে যাওয়ার সময় মহানগর ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বাঁধা দিলে সংঘর্ষ বাঁধে। বিষয়টি খুবই দু:খজনক। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেস্টা করা হচ্ছে।’


এ ব্যপারে জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি বলেন, ‘বিষয়টি নিজেদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝির কারণে হয়েছিল। এখন আর কোন উত্তেজনা নাই। বিষয়টি সমঝোতা হয়েছে।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রংপুর মহানগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের এসি নজির আহমেদ বলেন, ‘ যেহেতু ইফতার মাহফিলটি বড় ছিল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রন পত্র ছাপানো হয়েছিল। আমনন্ত্রণ পত্র ছাড়া কয়েকজন এসেছিলেন। তাদের প্রবেশ করা নিয়ে সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় উত্তেজনা প্রশমিত করে। বর্তমানে পারিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ইফতার মাহফিলের শেষ পর্যায়ে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য শেষের পর দোয়া-মোনাজাত শুরু করা হলেও উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ইফতার সরবরাহ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রায় শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী ইফতার না করেই স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কিন্তু কোথাও ইফতার ও পানি না পাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েন। পরে তারা রংপুর ক্রিকেট গার্ডেনে আধাঘন্টার পর নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ইফতার করেন সাংবাদিকরা। এনিয়ে বিব্রত রংপুরের সাংবাদিক সমাজ।

রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বাদল জানান, ‘বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। ইফতারের ব্যবস্থা করার সুযোগ না থাকলে সাংবাদিকদের আগেই সেটা জানিয়ে দিলে আমেন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সাংবাদিকদেরে এভাবে বিব্রত করা ঠিক হয়নি। এখন দেখা যাক এ বিষয়ে এনসিপি কী পদক্ষেপ নেন।’

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।