রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় যেসব উত্তর কোরীয় সেনা নিজেদের সাথে থাকা গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে আত্মাহুতি দিয়েছে, তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। এর মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘদিনের সন্দেহভাজন একটি চরমপন্থি নীতির সত্যতা নিশ্চিত হলো।
এই সপ্তাহে দেওয়া এক ভাষণে উত্তর কোরীয় নেতা বলেন, যারা ‘মহা সম্মান রক্ষার তাগিদে দ্বিধাহীনভাবে আত্ম-বিস্ফোরণ তথা আত্মঘাতী হামলার পথ বেছে নিয়েছে, তারা প্রকৃত বীর।’
দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমান অনুযায়ী, রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্কের অংশবিশেষ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে অন্তত ১৫ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানো হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং বা মস্কো—কোনো পক্ষই এই সংখ্যার সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
গোয়েন্দা সংস্থা এবং উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের মতে, উত্তর কোরীয় সেনাদের প্রতি পিয়ংইয়ং-এর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে, ইউক্রেনের হাতে বন্দি হওয়ার চেয়ে তারা যেন নিজেদের প্রাণ কেড়ে নেয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার পিয়ংইয়ং-এ নিহত সেনাদের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ উন্মোচনের সময় কিম বলেন, ‘বিনিময়হীন তাদের এই আত্মত্যাগ এবং কোনো পুরস্কারের আশা ছাড়া তাদের এই নিষ্ঠা… এটিই আমাদের সেনাবাহিনীর আনুগত্যের সর্বোচ্চ শিখরের সংজ্ঞা।’
এই অনুষ্ঠানে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রে বেলোসভ এবং রুশ পার্লামেন্টের স্পিকার ভ্যাচেস্লাভ ভোলোডিন উপস্থিত ছিলেন।
উত্তর কোরিয়ায় সেনাদের শেখানো হয় যে, যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর হাতে বন্দি হওয়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কাজ।
চলতি বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম এমবিসি ইউক্রেনে বন্দি দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দির একটি অনুষ্ঠান প্রচার করে। সেখানে এক বন্দিকে ক্যামেরার সামনে আক্ষেপ করে বলতে শোনা যায় যে, তিনি কেন নিজের জীবন কেড়ে নিলেন না। ওই বন্দি বলেন, ‘বাকি সবাই নিজেদের উড়িয়ে দিয়েছে। আমি ব্যর্থ হয়েছি।’
সিউলের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস গত বছর জানিয়েছিল, তারা নিহত উত্তর কোরীয় সেনাদের কাছে এমন কিছু চিরকুট বা মেমো পেয়েছে যা এই চরমপন্থা অবলম্বনকে ইঙ্গিত করে।
সোমবারের ভাষণে কিম যারা সরাসরি লড়াইয়ে মারা গেছেন তাদেরও প্রশংসা করেন। কিম বলেন, ‘যারা সম্মুখ যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন এবং যারা বুলেটে বা গোলার আঘাতে শরীর ক্ষতবিক্ষত হওয়ার যন্ত্রণার চেয়েও অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ার হতাশায় ছটফট করেছেন—তাদেরও দলের বিশ্বস্ত যোদ্ধা এবং দেশপ্রেমিক বলা যেতে পারে।’
২০২৪ সালের জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং কিম জং উন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন যেখানে বলা হয়, যেকোনো দেশ ‘আগ্রাসনের’ শিকার হলে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে। সেই সময় কিম এই চুক্তিকে তাদের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
সেনা পাঠানোর পাশাপাশি উত্তর কোরিয়া কুরস্ক পুনর্গঠনে সহায়তা করার জন্য হাজার হাজার শ্রমিক পাঠানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?