বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

লাইসেন্স নবায়নে মোটা অংকের টাকা, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ঘুষ, অনিয়ম ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমান, যিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন প্রভাব ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই কর্মস্থলে বহাল আছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিভিল সার্জন […]

লাইসেন্স নবায়নে মোটা অংকের টাকা, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১১ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৬

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ঘুষ, অনিয়ম ও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমান, যিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিভিন্ন প্রভাব ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একই কর্মস্থলে বহাল আছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে অঘোষিত প্রভাব বিস্তার করে আসছেন তিনি। জেলা জুড়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় তার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের লাইসেন্স নবায়ন কিংবা নতুন লাইসেন্স পেতে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারী ও জেলার কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জানান, জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের লাইসেন্স নিয়মিত নবায়ন করা নেই। তবে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চুক্তি হলে লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজন পড়ে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অভিযান শুরুর আগেই চুক্তিবদ্ধ মালিকদের সতর্ক করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তারা।

সূত্র জানায়, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ১৯৮৮ সালের দিকে স্টেনোটাইপিস্ট পদে যোগদান করেন মো. মিজানুর রহমান। ১৯৯৯ সালে তাকে ঢাকায় বদলি করা হলেও ২০০১ সালে আবার মুন্সিগঞ্জে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পিরোজপুরে বদলি করা হলেও তিনি হাইকোর্টে রিট করে সেখানে যোগদান না করে মুন্সিগঞ্জেই থেকে যান।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ঢাকা থেকে জারি করা এক স্মারকে তাকে মুন্সিগঞ্জ থেকে মাদারীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ ছিল। অন্যথায় ৬ষ্ঠ কর্মদিবস থেকে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি হিসেবে গণ্য করার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধেও তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং মুন্সিগঞ্জেই কর্মরত থাকেন।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন সেক্টরে তার কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন কর্মরত রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের দুই অ্যাম্বুলেন্স চালক জসিম ও মনিরের বিরুদ্ধে অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের বদলি করে। তবে পরে তারা হাইকোর্টে রিট করে আবারও একই পদে যোগদান করেন বলে জানা গেছে।

আরেকটি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান মিজানুর রহমান। দেশে ফেরার সময় অবৈধভাবে স্বর্ণ ও সৌদি রিয়াল আনার অভিযোগে সৌদি ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। পরে প্রায় দুই মাস সৌদি কারাগারে থাকার পর দেশে ফেরেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন লাইসেন্স নবায়নের জন্য চেষ্টা করেও কাজ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকার বিনিময়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতেও প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে সিভিল সার্জন ডা. কামরুল জমাদ্দারকে মিজানুর রহমানের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি চাকরিতে নির্দিষ্ট সময় পর বদলির নিয়ম থাকলেও দীর্ঘ ৩৫ বছর একই কর্মস্থলে থাকা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের প্রত্যাশা, যথাযথ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান অনিয়ম দূর হবে এবং জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।