ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা। এই সংঘাতের সামরিক ব্যয়ের বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ছয় মাস বাকি। এরই মধ্যে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রক (কন্ট্রোলার) পদে দায়িত্ব পালনকারী জুলস হার্স্ট প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটিকে জানান, এই অর্থের বড় অংশই গোলাবারুদ কেনার পেছনে ব্যয় হয়েছে।
তবে এই ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে ঠিক কী কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটির অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের সম্ভাব্য খরচ এতে ধরা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
হার্স্টের জবাবে কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ বলেন, “আপনি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, এতে আমি খুশি। কারণ আমরা অনেক দিন ধরেই এ বিষয়ে জানতে চাইছিলাম, কিন্তু কেউ নির্দিষ্ট করে জানায়নি।”
২৫ বিলিয়ন ডলারের এই ব্যয় চলতি বছরে নাসার মোট বাজেটের সমান।
তবে পেন্টাগন কীভাবে এই ২৫ বিলিয়ন ডলারের হিসাব নির্ধারণ করেছে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ গত মাসে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় কমপক্ষে ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
এদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যয় যৌক্তিক।
হেগসেথ বলেন, “ইরান যেন পারমাণবিক বোমা না পায়, তা নিশ্চিত করতে আপনি কত মূল্য দিতে প্রস্তুত? কতটা ব্যয় করবেন?”
তিনি তীব্র ভাষায় ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন এবং বলেন, এটি কোনো জটিল অচলাবস্থা নয়। একই সঙ্গে তিনি এই সংঘাতের সমালোচনাকারী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও আখ্যা দেন।
গারামেন্দির মন্তব্যের জবাবে হেগসেথ বলেন, “আপনি একে অচলাবস্থা বলছেন, এতে আমাদের শত্রুদের হাতে প্রোপাগান্ডা তুলে দিচ্ছেন। এমন বক্তব্যের জন্য আপনার লজ্জিত হওয়া উচিত।”
তিনি কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের ‘বেপরোয়া, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পরাজয়বাদী’ বলেও সমালোচনা করেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক সপ্তাহ ধরে লাগাতার বিমান হামলার পর বর্তমানে উভয় পক্ষ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি অবস্থায় রয়েছে।
এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে ওই অঞ্চলে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও মোতায়েন রাখা হয়েছে।
সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?