মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মুন্সিগঞ্জে আদিলুর রহমান খানের বাড়ির সামনে সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ভূইয়া পাড়া এলাকায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ির সামনে একটি সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, রাস্তা সম্প্রসারণে যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি এবং প্রভাব খাটানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশ বলছেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি […]

মুন্সিগঞ্জে আদিলুর রহমান খানের বাড়ির সামনে সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৮

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ভূইয়া পাড়া এলাকায় সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ির সামনে একটি সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, রাস্তা সম্প্রসারণে যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি এবং প্রভাব খাটানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশ বলছেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতেই সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক কোটি টাকার একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প দরপত্রের মাধ্যমে ১০ শতাংশ কম মূল্যে ৯০ লাখ টাকায় পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়া কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার। প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ মিটার এবং প্রস্থ ১২ ফুট নির্ধারণ করা হয়। তবে একটি মোড়ে জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা দেখা দিলে সেখানে আরও ৪ ফুট বাড়িয়ে রাস্তার প্রস্থ ১৬ ফুট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে রাস্তাটি কাঁচা ছিল এবং বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যেত। এতে এলাকার মানুষকে কাদা ও পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হতো। বর্তমানে রাস্তা নির্মাণের পর আশপাশের এলাকার মানুষ বাজার, স্কুলসহ বিভিন্ন কাজে সহজে যাতায়াত করতে পারছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমল থেকেই ষোলঘর বাজার থেকে কুমারবাড়ির ওপর দিয়ে ভূইয়া পাড়ার ভেতর দিয়ে একটি চলাচলের পথ ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় ওই জমির মালিক হিন্দু পরিবার ভারতে চলে গেলে জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে জাল দলিলের মাধ্যমে জমিটি দখল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ওই ১৬ ফুট প্রশস্ত পথে ইট বিছানো হয়। কিন্তু ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় জমিটি পুনরায় দখলে নেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০৭ সালে একটি দেওয়ানি মামলা করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সিএস রেকর্ডভুক্ত হিন্দু মালিকরা দেশভাগের সময় ভারতে চলে যাওয়ায় ২৪ শতাংশ জমি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত হবে এবং জমির ওপর করা দলিল বাতিল করা হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিম্ন আদালতে সরকার মামলায় পরাজিত হয়।

পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জেলা প্রশাসন বিষয়টি হাইকোর্টে আপিল করলে নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করা হয়। আদালত রুবেল গংয়ের ১২ শতাংশ জমির স্বত্ব বাতিল করেন এবং বাকি ১২ শতাংশ জমির দলিল যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এরপর ওই জমির একটি অংশ খাস খতিয়ানভুক্ত করে সেখানে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিকে রাস্তা নির্মাণের পর থেকেই একটি পক্ষ বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের দাবি, অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সহায়তায় জমি দখলসহ নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, রাস্তা সম্প্রসারণে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যের জমির ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্মাণকাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওরিয়া কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার সাইফুর রহমান বলেন, প্রকল্প অনুযায়ীই সড়কের কাজ করা হয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধা বিবেচনায় রেখেই কিছু অংশে রাস্তার প্রস্থ বাড়ানো হয়েছে।

শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলাম বলেন, “শুধু আদিলুর রহমান খানের বাড়ির সামনে নয়, পুরো সংযোগ সড়কটিই সংকীর্ণ ছিল। তাই সেটি প্রশস্ত করা হয়েছে, যাতে এলাকাবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন।”

এদিকে সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের এক বাল্যবন্ধুকে সুবিধা দিতে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে স্থানীয়রা জানান, ওই ব্রিজ দিয়ে আশপাশের প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করছেন এবং এতে তারা উপকৃত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, সড়কটি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমিয়েছে। তবে অন্যদিকে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।