মজনুর রহমান আকাশ মেহেরপুর প্রতিনিধি:
ডালিতে সাজানো শীতকালীন বাহারি সবজি।আকর্ষণীয় এই সবজি ক্রেতাদের সহজেই আকৃষ্ট করে। কিন্তু এখনকার চিত্র ভিন্ন। নানা রংয়ের লোভনীয় সবজি নিয়ে ব্যবসায়ীরা বসে থাকলেও কাঙ্খিত পরিমাণ ক্রেতার দেখা নেই। সবজির দাম কম তাই ক্রেতাদের কাছেও আকর্ষণ কমে গেছে বলে আফসোসের কথা জানালেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। মেহেরপুরের সাপ্তাহিক গাংনী হাটের চিত্র এমনই। কিছুদিন আগেই সবজির দামের উত্তাপে কেঁপেছিলেন দরিদ্র মানুষেরা।
সবজি উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা মেহেরপুরেও রমজানের শুরুতে দামে অসন্তোষ ছিল। বেগুন, লাউ, শসা, টমেটো, গাজরসহ প্রায় সব ধরনের সবজির কেজি ছিল ৭০ টাকার উপরে। চড়া মূল্যে দিশেহারা হয়ে পড়েন দরিদ্র মানুষেরা।
তবে রোজার মাঝামাঝি সময়ে ভাটা পড়েছে সেই চড়া দামে। যে শসা ও বেগুনের কেজি ছিল ১০০ টাকার উপরে এখন তার দাম ৫০ টাকার মধ্যে। টমেটো, লাউ, বাধাকপি, পালংশাক, লালশাক, মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন শাক সবজির দাম কমে যাওয়ার স্বস্থি ফিরে এসেছে ক্রেতাদের মনে।
ছোট ছোট ব্যাপারির পাশাপাশি হাটে বেগুন বিক্রি করছেন অনেক চাষী। তাদের মধ্যে একজন ধানখোলা গ্রামের লিটন হোসেন। দামের বিষয়ে তিন বলেন, বেগুনের দাম এতটা কমেছে যে পাইকারি বিক্রি করে কৃষকের লাভ হচ্ছে না। বাজারে বসে বিক্রি করলে খুচরা ৩০-৩৫ টাকা কেজি বেচা যায়। পাইকারীতে এ দাম তো ১৫-২০ টাকা।
খুচরা ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দীন বলেন, শীতকালীন সব সবজির পাশাপাশি আলু, পেঁয়াজ ও রসুনের দামও কমেছে অস্বাভাবিকভাবে। একশো টাকায় ৬-৭ কেজি আলু পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজের দামে তো চাষীদের পথে বসার মত অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকারীদের প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৫-১৭ টাকা কেজি এর খুচরা পর্যায়ে তা ২৫-৩০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, সবজির দাম কমে গেলে চাষীদের সাথে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কারণ উৎপাদন বেশি হওয়ায় বিক্রিতে কদর থাকে না। এ কারণে ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ সবজি কিনে বাজারে বিক্রির জন্য তুলছেন তার একটি অংশ অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে।
একদিকে সবজির বেশি উৎপাদন অন্যদিকে রোজার মাসে সবজির চাহিদা থাকে কম। সব মিলিয়ে আবারও লোকসানের মুখে পড়েছে সবজি চাষীরা। চাষীদের নায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তা পর্যায়ে দাম সহনশীল রাখা; এ প্রত্যাশা সকলের।