বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকারের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়ন, সাপ্লাইচেইন সচল রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
জনগণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, নিরাপত্তা এবং মৌলিক সেবা নিয়ে যে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, সেসব ইস্যুকে সামনে রেখেই সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চায়।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১৮০ দিনের একটি বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। প্রচলিত ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি এবার আরও বিস্তৃত সময়সীমা নির্ধারণ করে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাপ্লাইচেইন স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতিতে গুরুত্ব দিচ্ছি। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিশেষ করে গ্যাস ও বিদ্যুতের যেন কোনো সংকট না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।’ তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বাজারব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতকে কেন্দ্র করেই সরকার তাৎক্ষণিক চাপ মোকাবিলা করতে চায়। কারণ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি সংকট সরাসরি জনজীবনে প্রভাব ফেলে।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি কর্মকর্তাদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনকে আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব কেবল মন্ত্রীদের নয়, প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তাদেরও।
মন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে। সংবিধান, দেশের আইন এবং ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আইনি কাঠামো অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক এবং অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
প্রশাসনিক সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিবেচনা করা হবে না।’ অর্থাৎ কর্মদক্ষতা ও নীতিগত অবস্থানই হবে মূল্যায়নের প্রধান মানদণ্ড। নতুন সরকারের প্রথম পর্যায়ের এই ঘোষণাগুলো এখন বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।