ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচিকে তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণই বহু আগেই আওয়ামী দোসর নামক ভাইরাসকে লকডাউন দিয়ে রেখেছে; অথচ সেই দলই এখন উল্টো জনগণকে লকডাউন দিয়ে অবৈধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ভিডিও কনটেন্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন,
“লকডাউন দেওয়া হয় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। কিন্তু আওয়ামী লীগ লকডাউন দিচ্ছে জনগণের বিরুদ্ধে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ জাতির শ্বাসরোধ করে দিয়েছে, যেমন করোনাভাইরাস মানুষের শ্বাসরোধ করে দেয়।”
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য লকডাউন নামক অদ্ভুত প্রোপাগান্ডা ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে অবৈধ ও সন্ত্রাসী কৌশল অবলম্বন করে সাধারণ মানুষের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। রিজভীর দাবি, গত দুই–তিন দিনে দেশের ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে বে–আইনি হামলা ও বোমাবাজি করেছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ, যাতে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা যায়।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে ভয়াবহ লুটের শিকার হয়েছে।
“জনগণ যে টাকা পোস্ট অফিসে, ব্যাংকে বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয় করে—সেসব প্রতিষ্ঠানের কোষাগার লুট করেছে পতিত রাজনৈতিক দলের নেতারা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার—যা করেছে সবই দুর্নীতির পাহাড়।”
তিনি অভিযোগ করেন,
“১০০ টাকা নিয়ে ২ টাকা খরচ করেছে, ৯৮ টাকা আত্মসাৎ করেছে। লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আজ এটা প্রমাণিত।”
রিজভী বলেন, জনগণ এখন স্পষ্টভাবে বুঝে গেছে কে দেশের শত্রু, কে গণতন্ত্রের শত্রু। তাই জনগণই আজ আওয়ামী লীগকে লকডাউন করে দিয়েছে, আর জনগণের এই লকডাউনই বাংলাদেশকে রক্ষা করছে।