জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ঘিরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। তাকে দেখতে ছুটে গেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলম। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দলীয় মহাসচিবকে ফোনে নির্দেশ দেন জামায়াত আমিরের খোঁজ নিতে।
শনিবার রাতেই রাজধানীর এক হাসপাতালে জামায়াত নেতাকে দেখতে যান শফিকুল আলম। তিনি জানান,
“প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখানে আসার আগে আমি উনার হয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কয়েকবার কথাও বলেছি।”
জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন,
“শফিকুর রহমান সুস্থ আছেন, ভালো আছেন। সামনে নির্বাচন, আমরা চাই বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক নেতারা সুস্থ থাকুন, দেশের কাজে সক্রিয় থাকুন।”
বিএনপির পক্ষ থেকেও এসেছে স্পষ্ট বার্তা। তারেক রহমান সরাসরি ফোন করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্দেশ দেন জামায়াত নেতার খোঁজ নিতে এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করতে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে মির্জা ফখরুল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে নিয়ে হাসপাতালে যান। জামায়াত আমিরের পাশে বসে কুশল বিনিময় করেন এবং তার স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।
হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এক পর্যায়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, “আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেব বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। আপনার সুস্থতা কামনায় তিনি আমাকে ফোন করেছিলেন।”
জবাবে শফিকুর রহমান বলেন,
“বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকেও আমার পক্ষ থেকে সালাম দেবেন।”
এর আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দিতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন জামায়াত আমির। পরপর দুই দফা অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, একদা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী দুই জোট এখন রাজনৈতিক বাস্তবতায় কাছাকাছি চলে এসেছে। নির্বাচনের ছক কষা সময়েই জামায়াত ও বিএনপির নেতাদের মধ্যে এই তৎপরতা ইঙ্গিত দেয়, রাজপথের লড়াই শুধু বক্তব্য নয়, কৌশলগত সমন্বয়ের দিকেও এগোচ্ছে।