“আমাদের নতুন সংবিধান লাগবে, গণপরিষদ নির্বাচন লাগবে, নারীদের অধিকার ও সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে”
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে দাঁড়িয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্পষ্ট ভাষায় এই বার্তা দিলেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যোগ দিয়ে সারজিস বলেন,
“বাংলাদেশ থেকে মুজিববাদীদের ষড়যন্ত্র এখনও শেষ হয়নি। গোপালগঞ্জে মুজিববাদিদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। তারা শুধু জ্যান্ত নয়, বরং আগের চেয়ে আরও বেশি সক্রিয়।”
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন,
“এই মুজিববাদ একটি আদর্শ। শুধু আইনীভাবে তাদের মোকাবিলা সম্ভব নয়। আমাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে এবং সাংস্কৃতিকভাবে মুজিববাদের কোমর ভেঙে দিতে হবে।”
সারজিস আলম রাজনৈতিক ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন,
“রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, স্বৈরাচারের প্রশ্নে অভ্যুত্থানপন্থী সব শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। মুজিববাদী ভারতপন্থি গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হচ্ছে—এই শক্তিকে প্রতিহত করতে হলে শুধু বাংলাদেশপন্থি শক্তিগুলোকেই জায়গা দিতে হবে।”
ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন,
“বাংলাদেশে আর কোনো ভারতীয় আধিপত্যবাদের জায়গা থাকবে না। অন্য কোনো দেশের নামে এই দেশের ভাগ্য লেখা যাবে না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে সারজিস বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘সুশীল সরকারের’ রূপে দেখতে চাই না। আমরা চাই খুনি হাসিনার বিচার বাস্তবায়িত হোক। এটা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।”
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,
“আমরা আর কোনো রাজনৈতিক দলের বিচার বিভাগ চাই না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আর ক্ষমতাসীনদের লেজুড়বৃত্তিকারী বাহিনী হিসেবে দেখা চলবে না। কেউ চাঁদাবাজি করলে আমরা তা মুখের ওপরই বলব। তবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা সবাই এক থাকব।”