ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ঈদের দিনেও লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অনুষ্ঠিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন,
“ফ্যাসিবাদ এখনো বাংলাদেশে টিকে আছে। আমরা এটা মেনে নেবো না। কেউ আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করলে তার হাত অবশ করে দেওয়া হবে।”
এ হুঁশিয়ারির মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, আর কোনো ষড়যন্ত্রে জাতি প্রতারিত হতে দেবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে অনেকেই সোনার বাংলার নামে মানুষকে প্রতারণা করে দেশকে শ্মশানে পরিণত করেছে। জাতি সেই ভ্রান্ত পথে আর ফিরতে চায় না। ইসলামী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শয়তানের ফাঁদ এড়িয়ে সমাজে ন্যায়, সাম্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাই একমাত্র মুক্তির পথ। আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের নেতৃত্ব তাদের হাতে এলে সমাজ কল্যাণ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করেন, নামাজে ইমামতি করার যে যোগ্যতা, তা-ই নেতৃত্বের প্রকৃত বৈধতা।
তিনি শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরে নিজামী ৩৭টি বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে সফলভাবে পরিচালনা করেছিলেন।
“যদি দেশের ৪১টি মন্ত্রণালয় আল্লাহভীরু ও যোগ্য আলেমদের হাতে আসে, তাহলে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে—এ কথা বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই,” বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি স্থানীয় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কুলাউড়ার উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়ও করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন,
“নতুন ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে এই জাতির গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা ছাড়াও স্থানীয় শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকরা। এক প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, “দেশে স্থায়ী উন্নয়নের জন্য দরকার একটি ধর্মীয় মূল্যবোধে দাঁড় করানো রাজনৈতিক দর্শন, যা সমাজে ন্যায় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মুন্তাজিম।
ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য ঈদের দিনে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে ভোটাধিকার, নেতৃত্বের বৈধতা এবং জাতীয় মুক্তির পথ নিয়ে জোরালো বিতর্ক চলমান। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন স্পষ্ট ও দৃঢ় উচ্চারণ জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।