ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটানোর পর বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে মাইনাস করার গভীর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন,
“এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। বিএনপির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ‘ফর্মুলা ষড়যন্ত্র’ প্রতিহত করতে হবে। ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিকে আবারও একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
রবিবার (১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন,
“এই সরকার জনগণের বিপ্লবের মুখে পতনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত। তাই এখন ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিচ্ছে। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার নীলনকশা তৈরি হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা সেই নীলনকশা ভেদ করব। আমরা জানি, কারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত—দেশি-বিদেশি নানা পক্ষের যোগসাজশে তারা এই গণবিরোধী পরিকল্পনা করছে। কিন্তু বিএনপির কর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না। আবারও রাজপথে নামবে, নেতৃত্বে থাকবেন তারেক রহমান।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ইঙ্গিত করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন,
“এখন কেউ কেউ মসনদ আঁকড়ে থাকতে চান। নয় মাস পার হয়ে গেলেও এখনো নির্বাচন নিয়ে কোনও রোডম্যাপ নেই। সাহাবুদ্দীন সরকার তিন মাসে নির্বাচন করতে পেরেছিল, আপনি কেন নয় মাসেও তা পারেননি? আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে—এটাই জনগণের দাবি।”
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন,
“এখন গণতন্ত্রের প্রশ্নে কোনো ধূসরতা নেই। অথবা কে মধ্যপন্থী, কে স্বাধীন, সেই নাটকের অবসান প্রয়োজন। যারা দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ—তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ও মিতালী মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমির হোসেন বাদশা। উপস্থিত ছিলেন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন, মিতালী মার্কেট দোকানদার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ শিপন, সমাজসেবক হাজী কমর আলী মাতব্বরসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।
বক্তাদের কণ্ঠে একটিই বার্তা ছিল—বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র সফল হবে না। রাজপথেই বিএনপির জবাব আসবে—গণতন্ত্র, নির্বাচন ও জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে।