বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

‎কুবিতে শুরু হলো প্রথম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন

কুবি প্রতিনিধি : ‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে প্রথমবারের মতো শুরু হলো দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ইন সায়েন্সেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন। ‎শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) ময়নামতি অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। ‎‎বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে […]

‎কুবিতে শুরু হলো প্রথম আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২১:৫৫

কুবি প্রতিনিধি :

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে প্রথমবারের মতো শুরু হলো দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিসার্চ ইন সায়েন্সেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্মেলন।

‎শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) ময়নামতি অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলনের উদ্বোধন হয়।

‎‎বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. প্রদীপ দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান ।

‎এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিদুল ইসলাম, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসাইন উদ্দিন শেখর এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. পায়ের আহমেদসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

‎জানা যায়, সম্মেলনের প্রথম দিনে ১৪টি ভেন্যুতে ৬টি কি-নোট সেশন, ১৩ টি টেকনিক্যাল সেশন এবং ১টি পোস্টার সেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং দ্বিতীয় দিনে ৯টি ভেন্যুতে ৪ টি কি-নোট সেশন এবং ৯টি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

উক্ত সম্মেলনের জন্য মোট ২৭০ টি অ্যাবস্ট্রাক্ট জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১৮৪ টি নির্বাচিত হয়েছে। অ্যাবস্ট্রাক্টগুলোর মধ্যে ১৪৯ টি মৌখিক প্রেজেন্টেশন এবং ৩৫ টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন হবে। এছাড়াও সম্মেলনে ১৩ টি প্রবন্ধ উপস্থিত হবে এবং ২টি প্লেনারি টক অনুষ্ঠিত হবে। 

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “আমরা সবাই নিজ নিজ বিষয়ের গণ্ডির মধ্যেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি এবং আন্তঃবিষয়ক শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রায়ই উপেক্ষা করি।

আমরা মনে করি, রসায়ন শুধু রসায়নের জন্য, বায়োকেমিস্ট্রি বা অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি শুধু নিজ নিজ বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এই চিন্তা থেকে আমাদের বের হতে হবে। এখন সময় এসেছে বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময়ভাবে কাজ করার।

‎তিনি আরও বলেন , “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকের এই সেমিনার বৈশ্বিক সমস্যা সমাধান নিয়ে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ জন্য শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই চলবে না, প্রযুক্তি উদ্ভাবনও করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই অটোপাইলট নয়, বরং এটি একটি কো-পাইলট।

তাই শিক্ষার্থীদের এআইয়ের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং জানতে হবে, কোথায়, কখন এবং কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা উচিত এবং এআই কিভাবে গবেষণায় কাজে লাগাতে পারি সেটাও জানা দরকার।”

‎কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “দেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষাবিদদের এই দুই দিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সমাবেশের সূচনা হতে যাচ্ছে, এটি আমাদের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। এই সম্মেলনের কাঠামো ও পরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদকে জ্ঞান সৃষ্টির সুযোগ, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আমরা একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে বসবাস করছি, যেখানে জটিল বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো নতুন চিন্তা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার দাবি জানায়।’

‎তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি আর বিচ্ছিন্ন কোনো সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সম্মেলনটি ধারণা বিনিময়, গবেষণা উপস্থাপন ও ভাগাভাগি করা এবং ঐতিহ্যগত বিষয়ভিত্তিক সীমা অতিক্রম করে অর্থবহ একাডেমিক ও পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত গবেষণার উন্নয়ন ও প্রসারে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করি, এই কর্মসূচিগুলো কেবল একাডেমিক লক্ষ্যকেই সমৃদ্ধ করবে না, বরং ভবিষ্যৎ গবেষণা উদ্যোগ ও অংশীদারিত্বকেও অনুপ্রাণিত করবে।’

‎উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছে, যা আমাদের  বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং বৈজ্ঞানিক উন্নতির নির্দেশ করে। এখানে উপস্থিত বিভিন্ন গবেষক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাক্তি এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ নির্দেশ করে আমাদের একাডেমিক তাৎপর্য ।

আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই কনফারেন্সে স্কলার এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে, যা বহুমুখী এবং বেশ্বিক নানা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবে। ল্যান্ডমার্ক ইভেন্ট শুধু আমাদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নতি না, এটা আরো নতুন প্রজন্মদের এবং নতুন গবেষকদের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. মোঃ হায়দার আলি বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের প্রথম দিন থেকেই আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু শিক্ষাদানের কেন্দ্র নয় বরং গবেষণা ও উদ্ভাবনের এক উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমাদের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ইতোমধ্যে দুইটি আন্তর্জাতিক রিসার্চ আয়োজন করেছে এবং সম্প্রতি কলা অনুষদ আরও একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সফল আয়োজন করেছে। এসব উদ্যোগ আমাদের গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।’

‎তিনি আরও বলেন, “আমরা অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের প্রজেক্ট ও থিসিস গবেষকদের জন্য বিশেষ গবেষণা বৃত্তি চালু করেছি। চলতি বছর আমরা পিএইচডি প্রোগ্রামও চালু করার চেষ্টা করছি।

এই মাস থেকেই প্রায় ১৩ জন পিএইচডি গবেষক তাঁদের গবেষণা কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলে আমরা আশা রাখছি। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ গবেষণা বৃত্তি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিও আমরা দিচ্ছি।’

‎সম্মেলনের সভাপতি এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, “আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের লক্ষ্য হলো দেশ ও বিদেশের গবেষক ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের একসাথে হওয়া। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জটিল ও বৈশ্বিক চ্যালেন্জ গুলোর সমস্যা সমধান করা।

এই কনফারেন্স গবেষক ও শিক্ষানবীস গবেষক অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন আইডিয়া আবিস্কার করবে। দেশি বিদেশি গবেষকদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবে। যা সমাজের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে।”

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।