রাফি হোসেন, কুবি প্রতিনিধি:
‘যুক্তির বর্ণমালায় গ্রন্থিত হোক মুক্তির কবিতা’ প্রতিপাদ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটি (সিওইউডিএস)-এর উদ্যোগে প্রথম জাতীয় বিতর্ক উৎসব ফাইনাল পর্বের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের ফাইনাল দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ফাইনাল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
কুবি ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. মুহসিন জামিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল হাকিম এবং সংগঠনের মডারেটর ও গনিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজ থেকে আগত বিতার্কিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে “অপরিকল্পিত নগরায়নই পরিবেশ দূষণের মূল কারণ” বিষয়ের উপর ফাইনাল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জয়লাভ করে ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ পর্বে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন একই প্রতিষ্ঠানের মারুফ হাসান।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মধ্যে “এই সংসদ মনে করে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়কট কালচার মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী” শীর্ষক বিষয়ের উপর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক ও টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হন একই দলের ইরফান অপূর্ব।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো: মুহসিন জামিল বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠার বারো বছরে পদার্পন করলে ও এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় বিতর্ক উৎসব আয়োজন করতে পারিনি। কিন্তু এই বার সকলের প্রচেষ্টায় দেশের মোট ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় টিম এবং কুমিল্লা অঞ্চলের মোট ১০টি স্কুল-কলেজের সমন্বয়ে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আজকে ফাইনাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর সমাপ্তি অধিবেশন হয়েছে। কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির এই জাতীয় বিতর্ক উৎসবের যাত্রা অদূর ভবিষ্যতে ও অব্যাহত রাখবে এবং এর মাধ্যমে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটিতে নবীন শিক্ষার্থীদেরকে বিতার্কিক হিসেবে গড়ে তোলবে। তাদের জীবনের সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি কাজ করবে।
মডারেটর ও গনিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো.আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “মঞ্চে উপস্থিত প্রত্যেক অতিথিই প্রধান অতিথি হওয়ার যোগ্য তবুও আমাদের সীমাবদ্ধতার জন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এই প্রোগ্রামটির আয়োজন করার ক্ষেত্রে ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের, আন্তরিক সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এবং স্পন্সর ও অন্যান্য সহযোগীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা প্রথমবারের মতো এই আয়োজনটি করেছি, আমাদের কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “আমরা যখন বিশ্বিবদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করি তখন একটা চেয়ারও পাইনি, আমরা নিজেদের খরচে মার্কার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছি। তাই আমাদের সেই জায়গা থেকে একটি অনুভূতি কাজ করে। এরপর ৬ষ্ঠ ব্যাচ এসে ডিবেটিং সোসাইটি সহ আরো ক্লাব শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টির মতো নিবন্ধিত সংগঠন হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিতর্কের মাধ্যমে আপনাদের উপস্থাপনা ও শব্দচয়ন এবং বিপক্ষ দলকে কীভাবে আঘাত করা যায় এর জন্য আপনারা অনেক পড়াশোনা এবং পরিশ্রম করেছেন। আপনারা এক একজন বড় হয়ে দেশের কল্যানে কাজ করবেন। আপনারা যারা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছেন সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই।”
কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘অনেকে ডিবেটিং সোসাইটিকে অন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো করলে ও আমি ভিন্ন মত পোষণ করি। এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন। ডিবেটিং যারা করে এরা বুদ্ধির চর্চা করে। অপজিশনের মতামতকে খন্ডন করার জন্য যথেষ্ট বুদ্ধি লাগে। সুতরাং এটি বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ কেবলমাত্র সাংস্কৃতিক কাজ নয় এটা বুদ্ধির পরীক্ষা। বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আউটকাম বেসইড এডুকেশনে দিক দিয়ে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে।এই সাফল্য অব্যাহত থাকুক।’
উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩২টি দল এবং স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ১০ টি দল অংশগ্রহণ করে।