এ টি এম আজহারুল ইসলাম সরকারকে জনগণের দাবি-দাওয়া বোঝার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মানুষকে যেন আন্দোলনে নামতে বাধ্য না করা হয়। তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই জনগণকে দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে হচ্ছে, যা সরকারের জন্য ইতিবাচক বার্তা নয়।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংক মোড়ে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ কমানো’র দাবিতে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোট বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে এখন সংবিধানের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই সংবিধানের ভিত্তিতেই যখন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন নিজেদের সুবিধামতো আইন মানা আর অসুবিধাজনক বিষয় এড়িয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে। বর্তমান সরকার যদি মনে করে দমন-পীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন থামানো যাবে, তবে তা ভুল ধারণা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনো স্থায়ী ক্ষমতার নিশ্চয়তা দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের পরিবর্তে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বসিয়ে জবাবদিহিতা দুর্বল করা হচ্ছে।
জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, সরকারের নানা ব্যর্থতায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও সমালোচনা করলে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে কেন তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
নিজের বিরুদ্ধে আসা প্রাণনাশের হুমকির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব হুমকিতে ভীত নন এবং ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন হামিদুর আযাদ, নূরুল ইসলাম বুলবুল, ড. ওহাব মিনার, আনোয়ার হোসেন চাঁন, খন্দকার মেরাজুল ইসলাম, মূসা বিন ইজহার এবং আহমদ আলী কাসেমী প্রমুখ।