রবিবার, ০৩ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নতুন বছরে পবিপ্রবি বরিশাল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশার প্রাঙ্গণে আগমন ঘটছে ইংরেজি নতুন বছরের। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের জনগণও বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে ব্যস্ত। বিদায় নিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানসহ নানা ঘটনাবহুল ২০২৪ সাল। নতুন উদ্যম ও চেতনায় ভরপুর হয়ে দেশবাসী নতুন বছরের সম্ভাবনাময় আগামীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্তির হিসাব নিয়ে আশা ও […]

নিউজ ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:০৪

নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশার প্রাঙ্গণে আগমন ঘটছে ইংরেজি নতুন বছরের। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের জনগণও বিভিন্ন উৎসব-আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৫ সালকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে ব্যস্ত। বিদায় নিচ্ছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানসহ নানা ঘটনাবহুল ২০২৪ সাল। নতুন উদ্যম ও চেতনায় ভরপুর হয়ে দেশবাসী নতুন বছরের সম্ভাবনাময় আগামীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রাপ্তির হিসাব নিয়ে আশা ও নিরাশার মাঝে নতুন বছর আমাদের স্বপ্নকে কতটা বাস্তবায়িত করতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে।

নববর্ষ বরণের এই শুভক্ষণে, সামনে কী অপেক্ষা করছে তা কারও জানা নেই। তবে অজানা ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে, মঙ্গলময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় এগিয়ে চলা প্রয়োজন। শুভ প্রয়াস ও ভালো কিছুর আশা সর্বদাই মানুষের অন্তরে বিরাজমান। এই কল্যাণকর উন্নয়নের আশায় শুরু হোক নববর্ষের প্রথম প্রভাতের পথচলা। নতুন স্বপ্ন আর প্রত্যাশার আলোকে উদ্ভাসিত ২০২৫ সাল আলোকিত দিন ও নিরাপদ জীবনধারার সূচনা হোক।

এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বরিশাল ক্যাম্পাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী। নতুন বছরের প্রতিটি মুহূর্ত শিক্ষার্থীদের জন্য নবীন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে, যা তাদের একাডেমিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনকে আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত করার সুযোগ এনে দেয়। তারা সেই সুযোগগুলোকে সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে নতুন মাত্রায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করেন।

“মানবতার অঙ্গীকার: নতুন বছরের আহ্বান”

কালের স্রোতে বিলীন হলো আরও একটি বছর। উন্মোচিত হবে নতুন বছর ২০২৫-এর দ্বার। আশা-নিরাশার দোলাচলে, উত্থান-পতনের মিশ্রণে অতিবাহিত হলো গত বছরের দিনগুলি। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলানো যেন এক দুরূহ সমীকরণ।

মানুষে মানুষে ভালোবাসা কমেছে, অভিমান জন্মেছে পর্বতের ন্যায়। মূল্যবোধে লেগেছে অবক্ষয়ের দংশন, যুদ্ধের সাথে লোভের বাড়বাড়ন্ত। সহিংসতা, নৃশংসতা ও নির্মম রক্তাক্ত ঘটনাবলি যেন গত হওয়া বছরটির সাক্ষী। দেশের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ছিল বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার।

আমরাও প্রতিবছরের ন্যায় হাজারো আশা-প্রত্যাশা, স্বপ্ন-সম্ভাবনা ও প্রকৃত মানুষ হওয়ার সংকল্প নিয়ে পথচলা শুরু করি। কিন্তু সেই আশা-প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণে নিজেদের কতটা সচেষ্ট রাখি?

নতুন বছরের প্রারম্ভে সকলের প্রতি আহ্বান, আসুন, প্রথমেই একজন ভালো মানুষ হই। পুরানো বছরের হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা, হানাহানি ভুলে গিয়ে নিজেকে নবরূপে গড়ে তুলি। এখানেই রয়েছে মানবজীবনের প্রকৃত স্বার্থকতা।

মেহেদী হাসান

সেশন ২০২০-২১

“নতুন বছরে ক্যাম্পাসে নবজাগরণ”

এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যেভাবে স্বৈরাচারিতা মুক্ত হয়ে নতুন রূপ নিয়েছে ঠিক সেভাবেই নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা ক্যাম্পাসটাকে নতুন রূপে সাজানো। হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ আসন না থাকার কারণে অনেকেই গণরুমে অবস্থান করে যা সুস্থ ভাবে থাকার অন্তরায়। হল প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশা থাকবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হলের আসন বরাদ্দ দেওয়া। ক্যাম্পাসের আঙিনায় এলোমেলোভাবে ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকে, আমরা অনেকেই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলি। নতুন বছরে আমার প্রত্যাশা থাকবে আমরা সবাই যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে সঠিক জায়গায় ময়লা ফেলবো এজন্য ক্যাম্পাস প্রশাসনের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে সঠিকভাবে রাস্তার প্রতিটি মোড়ে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া। নতুন বছরে প্রশাসনের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে সেশনজট কমিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা আরও যেন তারা দ্রুতগামী করে দেয়।

নতুন বছরে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক সুন্দর সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে নতুন উদ্যমে নতুনভাবে গুছিয়ে এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

মোঃ ফারহান সাদিক

সেশন ২০২১-২২

“শিক্ষকদের থেকে সহানুভূতিশীল মনোভাবের প্রত্যাশা”

একটি আদর্শ ক্যাম্পাসে থাকতে হয় সুব্যবস্থিত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক পাঠাগার, এবং গবেষণা সুবিধা। যেখানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল ক্যাম্পাসের কোনো শ্রেণিকক্ষে নেই সাউন্ড সিস্টেম,অধিকাংশ শ্রেণীকক্ষের প্রজেক্টরের বেহাল দশা, প্রতিটি ল্যাবে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির সংকট,যা শিক্ষার্থীদের উন্নত পাঠদানের অন্তরায়। হল এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা উচিত। শিক্ষকদের সহানুভূতিশীল মনোভাব শিক্ষার্থীদের মানসিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। ক্যাম্পাসে সমতা ও অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি, যাতে সবাই একসাথে এগিয়ে যেতে পারে। পবিপ্রবির বরিশাল ক্যাম্পাসে ক্যান্টিনে ও হলের ডাইনিংয়ে উন্নত পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা উচিত। ক্যাম্পাসে সকল ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। নতুন বছরে যেনো কোনো রাজনৈতিক দল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে প্রশাসনকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে,যা সকল শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে। পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ক্যাম্পাসের প্রতিটি মোরে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো ক্যাম্পাসকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। সর্বোপরি, একটি ভালো ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য প্রেরণা দেবে।

মোঃ ফাহিম

সেশন ২০২১-২২

জুলাইয়ের চেতনা: বৈষম্যহীন ভবিষ্যতের স্বপ্ন

জুলাই এর রক্তক্ষয়ী বিপ্লব পর যে নতুন বাংলাদেশ এর সূচনা হয়েছে তা অক্ষত রেখে নতুন বছরে জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যমুক্ত সুন্দর ক্যাম্পাস বিনির্মাণ আমাদের লক্ষ্য। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল ক্যাম্পাস নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত । লাইব্রেরিতে বই ও জার্নাল সংকট, ল্যাবরেটরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ও শিক্ষা উপকরণের অভাব। প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে নতুন বছরে লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বই, জার্নাল এর ব্যবস্থা করা ও ল্যাবরেটরিতে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম সরবরাহ করা । তাছাড়া ক্যাম্পাসের এক মাত্র ছাত্র হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় অনেকটা জরাজীর্ণ অবস্থা ও বহু কক্ষ ব্যবহারের অনুপযুক্ত। নতুন বছরে হল প্রসাশনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলের ভবন গুলো পর্যাপ্ত সংস্কার করে অনুপযুক্ত রুম গুলো ব্যবহার যোগ্য করে হলের সিট সংকটের কিছুটা হলেও যেন অবসান করা হয়। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এর পরিবহণ ব্যবস্থা। দুঃখজনক হলেও সত্য বিপুল সংখ্যক ছাত্র থাকা সত্বেও ক্যাম্পাসের বাসের সংখ্যা মাত্র একটি। আশা করি নতুন বছরে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে পরিবহণ ব্যবস্থা সমৃদ্ধ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি সময়ের দাবি।

নতুন বছরে শিক্ষক , শিক্ষার্থী, প্রশাসন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাক আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস এটাই প্রত্যাশা। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা, নতুন বছর আপনাদের সবার জীবনে কল্যাণ বয়ে আনুক এই কামনা।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।