মো: হোসেন ,মনপুরা (ভোলা) প্রতিনিধি :
ভোলার মনপুরা উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন নদী তীরবর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পরস্পর যোগসাজশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাঁধ নির্মাণ করছেন।
শনিবার, দুপুর ২টায় উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের দখিনা হাওয়া সি-বিচ সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড়ে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাঁধ সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
নদীর মাঝ দিয়ে বাঁধ, বর্ষায় ভাঙনের আশঙ্কা মানববন্ধনে বক্তারা জানান, দখিনা হাওয়া সি-বিচ থেকে নুরুউদ্দিন মার্কেট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণে পুরাতন ফোল্ডার অনুসরণ না করে নদীর মধ্য দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি ভেঙে পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের বালি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগও করেন। তাস্থানীয়রা জানান, বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকেই অনিয়মের প্রতিবাদ করে আসছেন তারা। গত বছর একই দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেদ নিহত ন।
নিহত রাসেদের বড় ভাই আজাদ বলেন,“আমার ভাই বাঁধের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল পুরাতন ফোল্ডার অনুসরণ করে নিয়ম মেনে বাঁধ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এখন আবার নদীর মাঝখানে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।
তিনি দ্রুত সঠিক নকশা ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
পাউবোর বক্তব্য
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান বলেন“ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বাঁধের কাজ পুনরায় শুরু করা হয়েছে।তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পাউবো ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“নিয়ম মেনেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাজ করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হয়নি এবং বাঁধে কোনো ঝুঁকি নেই।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ মার্চ দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের দখিনা হাওয়া সি-বিচ এলাকায় বাঁধ নির্মাণের অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মারধরের ঘটনায় নিহত হন ছাত্রদল নেতা মো. রাসেদ। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।