রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় পায়রা নদীতে দেদারসে জাটকা ইলিশ শিকার চলছে। স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের ইন্ধনে এবং ম্যানেজমেন্টের আশ্বাসে জেলেরা অবৈধ জাল দিয়ে জাটকা শিকার করলেও সংশ্লিষ্ট তিন দপ্তরের তেমন কার্যকর অভিযান নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকার গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা শিকার, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু তালতলী ও আমতলী উপজেলাসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৮ হাজারের বেশি জেলে নিষিদ্ধ ২.৬ ইঞ্চি (৬.৫ সেমি) ফাঁসের জাল ব্যবহার করে জাটকা ইলিশ শিকার করছে। স্থানীয়দের দাবি, দাদন ব্যবসায়ীরা মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ জাটকা শিকারের সুযোগ তৈরি করছেন।
লোক দেখানো অভিযান, আগেই খবর পেয়ে যায় জেলেরা
স্থানীয়দের অভিযোগ-ফকিরহাট কোস্টগার্ড, নিদ্রা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর মাঝে মধ্যে নামমাত্র অভিযান চালালেও তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। বরং অভিযান শুরুর আগেই দাদন ব্যবসায়ীরা জেলেদের খবর দিয়ে দেয়, ফলে কাউকে আটকানোই যাচ্ছে না।
৫-৭ টন জাটকা প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাচার
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফকিরহাট বাজারের বিএফডিসি ঘাট, আমতলী ও তালতলীর বিভিন্ন আড়ত থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫-৭ টন জাটকা ইলিশ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে।
শনিবার সরেজমিনে তালতলীর ফকিরহাট, আশারচর, নিশানবাড়িয়া, নিন্দ্রা সাকিনা এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে জেলেদের শিকার করা জাটকা আড়তদারদের মাধ্যমে পরিবহন করতে দেখা গেছে।
জেলেদের দাবি: দাদনের টাকা শোধ করতেই জাটকা শিকার
ফকিরহাটের জেলে জুয়েল, শাহীনসহ কয়েকজন বলেন,
“দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়েছি। টাকার চাপ রয়েছে, তাই বাধ্য হয়েই জাটকা শিকার করছি। এসব ব্যবসায়ীরাই প্রশাসনকে ম্যানেজ করেন।”
অভিযোগ অস্বীকার সংশ্লিষ্টদের
ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবর ফরাজী বলেন,
“জেলেরা নিজেরাই নিষিদ্ধ জাল দিয়ে শিকার করছে। আড়তদারদের কোনো হাত নেই।”
নিদ্রা নৌ পুলিশের ইনচার্জ সাগর ভদ্র অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“নিয়মিত অভিযান চালানো হয়।”
তবে কতজন জেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে-এমন প্রশ্নে তিনি কোনো জবাব দিতে পারেননি।
তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন,
“কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকায় অভিযান হয়নি। এই ফাঁকে জেলেরা জাটকা শিকার করেছে।”
আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ বলেন,
“বরাদ্দ না থাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পেলেই অভিযান শুরু হবে।”
ইউএনওর কঠোর অবস্থান
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেবক মন্ডল বলেন,
“কোনোভাবেই জাটকা শিকার, পরিবহন বা বিপণন করা যাবে না। যারা জড়িত থাকবে-তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”