গাজীপুর- প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন (বড়দিন) ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়েছে।
উপজেলার একাধিক উপাসনালয়ে সকাল ৭ টায় প্রার্থনার মাধ্যমে বড়দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সকাল নয়টায় চলে দ্বিতীয় পর্ব। এ সময় খ্রিস্টান পল্লীর সকল বয়সী নারী পুরুষের মিলনমেলা ঘটে উপাসনালয় চত্বরে। প্রার্থনা শেষে প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন চার্চের পাল পুরোহিতগণ।
সরে জমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া, নাগরী, তুমলিয়া, মঠবাড়ি এবং দড়িপাড়া এলাকায় অবস্থিত ধর্মীয় উপাসনালয় গুলো নানা রকম আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়। বিভিন্ন বয়সি গায়কদের সমন্বয়ে গঠিত ধর্মীয় গানের দল বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে কীর্তনের সাথে নেচে গেয়ে বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতেও দেখা যায়।
বড়দিন কে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা বিশেষ ধরনের পিঠা কেক বানিয়ে থাকেন আতিথিয়তার জন্য। এরমধ্যে অন্যতম হলো: চিতই পিঠা, ফিলিক্স পিঠা, পাটিসাপটা, কুলি পিঠা, বিবিকা পিঠা, সাজ পিঠাসহ নানা রকম মিষ্টান্ন এবং ঘরে তৈরি কেক।
তুমলিয়া চার্চের পাল পুরোহিত ফাদার জাকোব স্বপন গমেজ জানান, বেথলেহেমে আজকের এই দিনে খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার জন্ম উৎসবকে ঘিরেই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব পালিত হয়। তারা এই দিনকে কেন্দ্র করে সকলে মিলেমিশে আনন্দ উদযাপন করেন। প্রতিটি চার্চে পৃথিবীর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ প্রার্থনাও করা হয়।
নাগরী চার্চের পাল পুরোহিত ফাদার খোকন বলেন, প্রতিটি ধর্মের মানুষের জন্য একটি বিশেষ উৎসবের দিন রয়েছে। আমাদের যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন উপলক্ষে আমরা এই দিনটাকে বড়দিন হিসেবে উদযাপন করি। উপাসনালয় গুলোতে চলে দিনব্যাপী আনন্দ উৎসব।
তিনি আরো বলেন, সমগ্র পৃথিবীতে শান্তি বিনির্মাণে প্রভু যিশুর দেখানো পথ অনুসরণ এবং মানব কল্যাণের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।