মেহেরপুর প্রতিনিধি:
মেহেরপুরে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের দায়ে আসামী দাউদ আলী (৪৮) নামের এক জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে আদালত| আজ রবিবার দুপুরে শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ তাজুল ইসলাম এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন| এছাড়াও আরো এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে| সাজাপ্রাপ্ত আসামী শহরের তাঁতীপাড়ার কাছেদ আলীর ছেলে|
মামলার বিরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৮ই জুন শিশুটি পার্শ্ববর্তী চাচার বাড়িতে ঘুমানোর জন্য রাত ১০ টার সময় বাড়ি থেকে রওনা দেয়| পথিমধ্যে শিশুটিকে একা পেয়ে দাউদ আলী নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যায়| একপর্যায়ে শিশুটিকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে|
শিশুটি চাচার বাড়িতে পৌঁছিয়েছে কিনা পরিবার থেকে রাতেই খবর নেওয়া হয়| কিন্তু তারপর থেকেই তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়না| রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে না পেয়ে ভোর থেকে আবারও শিশুটির সন্ধান করতে থাকেপরিবার|
অনেক খোঁজাখুজির পর পরদিন সকাল ৭ টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে দাউদের বাড়িতে পাওয়া যায়| তার শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘটনাজিজ্ঞাসাবাদ করে| একপর্যায়ে শিশুটি বলে তাকে দাউদ আলী নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণকরেছে|
পরে শিশুটির বাবা বাদি হয়ে ২০১৮ সালের ১৯জুন মেহেরপুর সদর থানায় ধর্ষনের মামলা দায়ের করেন| ঐ বছরের ১৩ আগস্ট দাউদকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম খান|
১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহন শেষে আজ রবিবার দুপুরে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন আদালত| পাশাপাশি আরো এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডাদেশ, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় বিজ্ঞ বিচারক| আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজু রহমান তুহিন, আর আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট পল্লভ ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান ও অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা|