বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

 নির্বাচন পরবর্তী যেমন বাংলাদেশ চায় ছাত্রসমাজ

আবু তাহের, জাককানইবি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ছিল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও দেশকে পুনর্গঠনের এক শুভ সূচনা। এর ভিত্তি রচিত হয় জুলাই মাসে ছাত্র সমাজের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এই নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা ছিল একটি বড় অংশ, যারা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নবনির্বাচিত […]

 নির্বাচন পরবর্তী যেমন বাংলাদেশ চায় ছাত্রসমাজ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৩৯

আবু তাহের, জাককানইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ছিল নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও দেশকে পুনর্গঠনের এক শুভ সূচনা। এর ভিত্তি রচিত হয় জুলাই মাসে ছাত্র সমাজের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এই নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা ছিল একটি বড় অংশ, যারা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারের প্রতি তাদের প্রত্যাশা ও দায়িত্ববোধের বার্তা দিয়েছেন। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার, শিক্ষা ও অর্থনীতির দিকনির্দেশনা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ—এসব বিষয়ে নিজেদের আশা ও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ত্রয়োদশ সংসদ-পরবর্তী বাংলাদেশকে ঘিরে তাদের চিন্তা, ভাবনা ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছেন দেশকালের প্রতিনিধি আবু তাহের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল্লাহ রিমন বলেন, ‘জুলাইয়ের এই বর্ষা বিপ্লব ও ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর আমরা যে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করি, সেই জায়গা থেকে আমাদের দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা—বাংলাদেশ যেন আর কখনোই ফ্যাসিবাদের কবলে নিমজ্জিত না হয়। বিশেষ করে এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে—বিজয়ী ও পরাজিত সকল দলের প্রতি একটি যৌথ দায়িত্ব রয়েছে,

যেন দেশে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। সে ক্ষেত্রে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার তার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে যথাযথভাবে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোর কাছেও আমাদের আশা,

তারা বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে। অতীতে আমরা দেখেছি, বিরোধী দলগুলো অনেক সময় নিজেদের একমাত্র দায়িত্ব হিসেবে সরকারবিরোধিতাকেই বেছে নিয়েছে। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পর আমরা মনে করি, বিরোধী দলের দায়িত্ব কেবল সবকিছুতে বিরোধিতা করা নয়; বরং রাষ্ট্র গঠনে সরকারের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।

সরকার যদি কোনো ক্ষেত্রে ভুল করে, তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরা এবং সঠিকভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করাই হওয়া উচিত বিরোধী দলের ভূমিকা। এভাবে দায়িত্ব পালন করা গেলে আমরা আশা করি, বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠবে না।

সরকারি দলের প্রতিও আমাদের প্রত্যাশা—তারা এমনভাবে বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যাতে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে ধ্বংসপ্রাপ্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠিত হয় এবং কার্যকরভাবে দাঁড়িয়ে যায়। বিশেষ করে যে জুলাই সনদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় পেয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে—এটাই জনগণের আশা।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাস পরিস্থিতির কথাও গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই আন্দোলনের আগে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী কায়দায় যেভাবে ক্যাম্পাসগুলো দখলে রেখেছিল, তাতে শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য সকল সংগঠনের কার্যক্রম প্রায় নিষিদ্ধ হয়ে পড়েছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকারেও বারবার হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

আমরা এই ধরনের ক্যাম্পাস, এই ধরনের বাংলাদেশ চাই না। আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস চাই, যেখানে সকল শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব অধিকার ভোগ করতে পারবে। নতুন সরকারের কাছে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির একটি ছাত্র সংগঠন হিসেবে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য মামুন সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার চাওয়া থাকবে, আগামীর বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিক তার যথাযথ মর্যাদায় বসবাস করবে এবং ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ থাকবে। এখন নির্বাচন শেষ,

কিন্তু দায়িত্বের পথ এখনই শুরু। জয়-পরাজয়ের উচ্ছ্বাস পেরিয়ে আসুক আত্মসমালোচনা, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং জনকল্যাণের দৃঢ় অঙ্গীকার। গণতন্ত্র কেবল ভোটের দিনে নয়; প্রতিদিনের জবাবদিহি, সহনশীলতা ও নাগরিক সচেতনতায়ই তা শক্তিশালী হয়। আসুন, বিভাজন নয়—পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্যের মাধ্যমে এগিয়ে নেই আমাদের দেশ।’

শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিন পর জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে, যা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বার্তা বহন করে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২১২টি আসনে বিজয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। এর মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন জানিয়েছে।

দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও রিজার্ভ দুর্বল হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা—অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। শিক্ষাব্যবস্থায় বাস্তবমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যখাতে মানসম্মত চিকিৎসা এবং গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। নতুন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা একটাই—কথায় নয়, কাজে উন্নয়ন; পরিসংখ্যানে নয়, মানুষের জীবনে পরিবর্তন।’

সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী সৈতি মন্ডল বলেন,

‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সংস্কৃতির উপর যেই নগ্ন হামলা হয়েছে, সেটা যেন আর না হয়। আমি সংগীতের ছাত্রী। সংগীত একটি পরিবেশনা বিদ্যা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন সংগীতের আসর পন্ড করা হয়েছে,মাজারে হামলা হয়েছে, বাউলদের উপর হামলা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এক প্রকার বাধাগ্রস্ত ছিল। এরকম ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা একটি মুক্ত স্বাধীন পরিবেশ চাই,যেখানে মুক্তভাবে কোনো বাধা ছাড়া সংস্কৃতি চর্চা করতে পারবো। শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে সংগীত, নাট্যকলা, চারুকলা বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে যেন শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারে, তাই কর্মক্ষেত্র বাড়াতে হবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার অমি বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। দেশে এসেছে নতুন সরকার ও নতুন প্রধানমন্ত্রী। এই নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, তা হোক ন্যায়ের, মানবিকতার ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ।

আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ—যেখানে আইনের শাসন থাকবে সবার জন্য সমান,

যেখানে দুর্নীতির নয়, স্বচ্ছতার হবে শাসনের মূলনীতি, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ঘৃণার নয়, যেখানে উন্নয়ন হবে শুধু অবকাঠামোয় নয়, মানুষের জীবনমানেও।

নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ হোক কর্মসংস্থানের বাংলাদেশ—যুবকদের জন্য আশার, কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্যের, শ্রমিকের জন্য মর্যাদার, নারীর জন্য নিরাপত্তার বাংলাদেশ। আমরা চাই এমন একটি রাষ্ট্র,

যেখানে সরকার ও জনগণ মুখোমুখি নয়, পাশাপাশি হাঁটবে; যেখানে ভিন্নমত থাকবে, কিন্তু বিভাজন নয়; যেখানে রাজনীতি হবে সেবার মাধ্যম, ক্ষমতার নয়।এই প্রত্যাশা নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই—একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে।’

ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ঐশ্বর্য হৃদয় বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের কাছে আমাদের যেমন অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি আমার ব্যক্তিগত চাওয়াও রয়েছে। সর্বপ্রথম আমি চাই, এই সরকার যেন জননিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে।

একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে হতে হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আমি যেহেতু একজন শিক্ষার্থী, তাই শিক্ষাখাতে বাজেটের একটি বড় অংশ বরাদ্দ দেওয়ার প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে সরকার বড় অঙ্কের বাজেট ব্যয় করবে এবং সেই ব্যয় জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এই আশা রাখি। এছাড়া আমাদের চিকিৎসা খাত দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই ভঙ্গুর চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর প্রত্যাশা জানাই সরকারের কাছে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতালগুলোতে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমমানের হাসপাতাল নির্মাণ করে সেখানে দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ দিতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্রমিকদের অধিকার। দেখা যায়, ন্যায্য মজুরির দাবিতেও শ্রমিকদের আন্দোলনে নামতে হয়।

এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও পুলিশের গুলিতে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাও আমরা দেখেছি। আমি চাই, এই গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে কোনো শ্রমিক যেন তার বেতন-ভাতার দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য না হয় এবং পুলিশ যেন লাঠিচার্জ বা গুলি না চালায়।

সরকারের কাছে অনুরোধ, একটি নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হোক, যাতে একজন শ্রমিক বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবনযাপন করতে পারে।’

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।