ভারতকে টেরোরিস্ট, ভোট চোর, মাফিয়া ও কিলারদের সেফ হাউজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারত একটি বিতর্কিত ভূমিকা পালন করছে এবং বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে নিরাপদ আশ্রয় পাচ্ছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। পোস্টে তিনি সরাসরি লিখেছেন, “ভারত: টেরোরিস্ট, ভোট চোর, মাফিয়া এবং কিলারদের সেফ হাউজ।”
তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার বক্তব্যকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সংযুক্ত করে দেখছেন।
এনসিপি নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা, টার্গেট কিলিং এবং অস্থিতিশীলতার পেছনে দেশবিরোধী শক্তির ভূমিকা রয়েছে। এসব শক্তির একটি অংশ সীমান্তের ওপারে আশ্রয় পাচ্ছে—এমন অভিযোগ আগেও উঠেছে। হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্য সেই অভিযোগগুলোকেই আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।
হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা শুধু একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল করার অভিযোগও রয়েছে ভারতের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ভোট কারচুপি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন মন্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নির্বাচন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন, যার অংশ হিসেবেই হাসনাত আবদুল্লাহর এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।