ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। তিনি বলেন, ওসমান হাদি জুলাইয়ের একটি জীবন্ত চরিত্র, তার ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের চেতনাকেই আঘাত করা।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নুরুল হক।
তিনি বলেন, “ওসমান হাদি জুলাইয়ের একটা চরিত্র। তার ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপর আঘাত। এখন প্রশ্ন হলো—আমরা কার কাছে নিরাপত্তা চাইব? সরকার কজনকে নিরাপত্তা দেবে?” তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিবিশেষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেয়ে সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত রাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সরকারকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে নুরুল হক বলেন, “আমাদের কোনো সান্ত্বনার বাণী শোনাবেন না। শেখ হাসিনার পরিণতি আপনারা দেখেছেন। কীভাবে বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবন ঘেরাও করতে গিয়েছিল। আপনারাও যদি শেখ হাসিনার মতো সান্ত্বনার বাণী শোনান, ঘুমপাড়ানি মাসিপিসির গল্প শুনিয়ে মানুষকে শান্ত রাখতে চান—তা পারবেন না।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গণ অধিকার পরিষদের এই নেতা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু সন্ত্রাসী বর্তমানে জামিন পাচ্ছে। তিনি বলেন, “এই গণ–অভ্যুত্থানে যারা গণবিরোধী ভূমিকা রেখেছিল, সেই সন্ত্রাসীরা কীভাবে জামিন পাচ্ছে? কারা তাদের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে—এ প্রশ্নের উত্তর জনগণ জানতে চায়।”
নুরুল হক বলেন, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সরকারকে শুধু বিবৃতি নয়, দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, “এই হামলা যদি যথাযথভাবে মোকাবিলা না করা হয়, তাহলে এটি শুধু একজন ব্যক্তির নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকবে না—এটি পুরো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।”