বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

একযুগ পর প্রকাশ্যে নবীণদের বরণ করলো ইবি ছাত্রশিবির

ইরফান উল্লাহ্, (ইবি প্রতিনিধি): দীর্ঘ একযুগ পর প্রকাশ্যে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া জেলার শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়নে এটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, চব্বিশের আন্দোলন প্রায় ২ হাজার শহীদ ও হাজারো […]

নিউজ ডেস্ক

২১ নভেম্বর ২০২৪, ১৯:৫৯

ইরফান উল্লাহ্, (ইবি প্রতিনিধি):
দীর্ঘ একযুগ পর প্রকাশ্যে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশিবির। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নয় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া জেলার শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়নে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, চব্বিশের আন্দোলন প্রায় ২ হাজার শহীদ ও হাজারো শিক্ষার্থী-জনতার পঙ্গুত্ব বরণ ও আহত হওয়ার বিনিময়ে সফলতা এসেছে। এই সফতলার মূল স্পিরিট হলো বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ ও স্বাধীনতা ভোগ করা। এই সফলতার জন্য প্রথম ত্যাগী আবু সাইদ। আমরা সকলেই এই আন্দোলনের সামনে ছিলাম। শিবির মেধাবীদের সংগঠন। যে শিবির করবে সৎ, দক্ষ, যোগ্য হবে। ছাত্রশিবির রাজনীতি চর্চা করে না। ছাত্রদের সাথে নিয়ে কাজ করতে চায়।
মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, জাতির সামগ্রিক উন্নতিতে কোনো লিডারই কাজ করেনি। আমাদের দাস অনুদাসে করে তোলা হয়েছে। এটা রাষ্ট্রের বড় এক ত্রুটি। এই জায়গা থেকে বের হতে না পারায় যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। এটা জাতির সবচেয়ে বড় সংকট। আর যে সৎ ছিল তাকেই হত্যা করা হয়। তাই এখন নতুনদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা জাহেলিয়াত মুক্ত নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি করতে চাই। জালিম সরকার হাসিনার পতনের মত একই কায়দায় নতুন প্রজন্ম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে জানে।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ইবি শাখার সভাপতি এইচ এম আবু মুসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় পুলিশের গুলিতে শহীদ আব্দুল্লাহ আল মোস্তাকিমের পিতা লোকমান হোসাইন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম।
এসময় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন ইবি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আল-হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট ও বায়েটোকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া-যশোর শাখার টিম সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলার সাবেক আমির অধ্যক্ষ এ কে এম আলী মহসিন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক সোহেল এবং কুষ্টিয়া শহর শাখার সভাপতি সেলিম রেজা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির ইবি শাখার সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান।
এর আগে নবীনদের স্বাগত জানিয়ে ইবি শাখার সভাপতি এইচ এম আবু মুসা বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির নানান প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়েছে। এই সংগঠন ছাত্র অঙ্গনে বিপ্লব সংগঠনে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সুস্থধারার রাজনীতি গঠন সহ বিভিন্ন আন্দোলনে যে ত্যাগ শিকার করেছে তা বৃথা যাবে না।

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

নাফিউল করিম হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে গবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সানজিদা খানম উর্মি, গবি প্রতিনিধি: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ফার্মেসী বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিউল করিম সোহান (২৩) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)  দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে শুরু করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইশমাইলে ‘জ্ঞানের প্রবেশদ্বার’ সংলগ্ন গেইটের সামনে অবস্থান করে মানববন্ধন পালন করেন […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০:৩৬

সানজিদা খানম উর্মি, গবি প্রতিনিধি:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) ফার্মেসী বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিউল করিম সোহান (২৩) হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর)  দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বর থেকে শুরু করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাইশমাইলে ‘জ্ঞানের প্রবেশদ্বার’ সংলগ্ন গেইটের সামনে অবস্থান করে মানববন্ধন পালন করেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা ‘নাফিউল হত্যার বিচার চাই, ঘাতকদের ফাঁসি চাই’, ‘ঘাতকদের গ্রেফতার করো, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করো’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ স্লোগান দিতে থাকেন।

বিচারের দাবি জানিয়ে নাফিউলের সহপাঠী শফিকুল ইসলাম শিপন বলেন, ‘আমার বন্ধুকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, আর আজ সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা ছাত্র সমাজ শোকাহত ও ক্ষুব্ধ। এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

পুলিশ ও প্রশাসনের তালবাহানা আমরা মেনে নেব না। নাফিউলের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার না হলে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। সুষ্ঠু বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আমরা ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক থেকে পাবনা কোর্ট পর্যন্ত যাব।’

ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুর রহিম বলেন, ‘নাফিউল করিমকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়—এই হত্যাকাণ্ডকে তাঁর কাকা, কাকাতো ভাই ও ভাতিজাবউ গোপন করার চেষ্টা করেছেন। নাফিউলের পরিবার বাড়তি অভিযোগ দিয়েছে এবং মামলা তুলতে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে জানাতে চাই,

আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না আনা হলে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্র সমাজ কঠোর অবস্থানে যাবে। আমরা দাবি করি, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হোক। পাশাপাশি নাফিউলের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

ফার্মেসী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোছা: রোজিনা পারুল বলেন, ‘নাফিউলের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। মাত্র ছয় মাসের মাথায় আমরা আমাদের বিভাগের এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ফার্মেসি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছি—এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, কারণ আমরা আমাদের একজন কৃতী ছাত্রকে হারিয়েছি। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জোর দাবি জানাই। তার পরিবারের কাছ থেকে আমরা আরও জেনেছি যে,

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের গড়িমসি চলছে। তাই প্রয়োজন হলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি জিডি করার উদ্যোগ নেব, যাতে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।’

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো: ওহিদুজ্জামান, ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নিহত নাফিউল করিম সোহান পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের রেজাউল করিম-নাসিমা আক্তার দম্পতির সন্তান। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।