আতিকুর রহমান, রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিলে গত ২২ বছরে সংগৃহীত অর্থের কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাকসুর কোষাধ্যক্ষ -এমন অভিযোগ তুলেছেন রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। এত বছর ধরে ওই টাকার একটি বড় অঙ্ক জমা হওয়ার কথা, কিন্তু এর কোনো স্পষ্ট হিসাব নেই। আমরা জানতে চাই—রাকসু ফান্ডে এখন প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আছে?’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অর্থের জবাবদিহি থাকতে হবে। ২০১৩ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত আয়ের হিসাব দিতে পারলেও ১৯৯০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ের অর্থের কোনো তথ্য দিতে পারছেন না প্রশাসন ও কোষাধ্যক্ষ। এর দায় কেউ এড়াতে পারে না।’
ভিপি জাহিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরি। আমরা কেবল রাকসুর তহবিলের ওপর নির্ভর না থেকে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও বিকল্প উৎস থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির। তিনি রাকসুর প্রথম অধিবেশনে গৃহীত আগামী এক মাসের কর্মসূচি তুলে ধরেন।
ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাকসু তহবিলের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ,সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সায়মার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ,শিক্ষার্থী জারাফার জন্য রাকসুর উদ্যোগে ফান্ড রেইজিং,বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের রোডম্যাপ প্রণয়ন,সমাজে স্বীকৃত পোশাক নিয়ে কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবি (আল মামুন প্রসঙ্গ),প্রতিটি হলে পানি ফিল্টার মেশিন স্থাপন,একাডেমিক ভবনগুলোতে স্যানিটাইজার ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন।
এছাড়া ছাত্রী হলের সামনে ফার্মেসি, সুপারশপ ও মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিতকরণ, মহিলা জিমনেসিয়াম চালু, হল ও একাডেমিক ভবনে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ, স্যুভেনির শপ স্থাপন, আন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন ও “ক্লিন ক্যাম্পাস” কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে রাকসুর সভাপতি ও উপাচার্যের উপস্থিতিতে রাকসুর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।