প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে প্রশাসন ও বিচার বিভাগে থাকা ‘চিহ্নিত ফ্যাসিস্টদের’ অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, প্রশাসনের ভেতরে যেসব ফ্যাসিস্টের দোসর রয়েছে—তাদের অবিলম্বে সরাতে হবে। নির্বাচনের আগে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।”
ফখরুল বলেন, “সচিবালয়ে এখনো অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা স্বৈরাচার সরকারের সময় দলীয়ভাবে কাজ করেছেন। তাদের দায়িত্বে রাখা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তাই আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছি যেন এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”
বিচার বিভাগেও কিছু পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তার উপস্থিতির অভিযোগ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এটা যদিও বিচার বিভাগের বিষয়, তবুও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস চাইলে উদ্যোগ নিতে পারেন। ন্যায়বিচারের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “পুলিশে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকারকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে। যদি কোথাও দলীয় প্রভাব থাকে, সেটি অবিলম্বে দূর করতে হবে।”
ফখরুল জানান, বিএনপি বিশ্বাস করে—অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা ছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।