ভারতের আধ্যাত্মিক রাজধানীখ্যাত বারাণসী দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি এলাকা। উনিশ শতকের শুরুতে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির মিলনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটিকে ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন বসতিস্থল মনে করা হয়।
এই শহরের একটি জনবহুল ছোট্ট গলিতে পুরো জীবনকাল কাটিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সি মো. আহমদ আনসারি। গত দুই দশক ধরে সন্ধ্যাবেলায় মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি আর মসজিদের আজান শুনে শুনে তাঁতের শাড়ি বুননের কাজটি উপভোগ করে আসছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনাসহ বিভিন্ন কারণে বেনারসি শাড়ির বিক্রি অনেক কমে গেছে। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশের পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে।
গত এপ্রিলে ভারত থেকে চাল ও সুতাসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের আমদানি সীমিত করে বাংলাদেশ। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত ১৭ মে বাংলাদেশের রেডিমেড গার্মেন্টস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার আমদানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর প্রভাব পড়ে বেনারসি শাড়ির বাজারে।
কোভিড-১৯ ও ভারত সরকারের নতুন নীতির পর সর্বশেষ সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতির ফলে প্রায় অর্ধেক বেনারসি শাড়ি ব্যবসায়ী অন্য কাজের খোঁজে বারাণসী শহর ছেড়েছেন।
ভারতের প্রায় ৩৫ লাখ লোক জীবিকা নির্বাহের জন্য বস্ত্রশিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যা কৃষি খাতের পর দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্মক্ষেত্র। বেনারসি শাড়ির তাঁতি ও ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় আছেন।নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করবেন।
অসাধারণ কারুশিল্প, সিল্ক, সূক্ষ্ম সোনা ও রুপার তারের সূচিকর্মের সূক্ষ্ম জরির কাজের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পাওয়া একটি বেনারসি শাড়ি তৈরি করতে ছয় মাসেরও বেশি সময় লাগে। নকশা ও মানভেদে একেকটি বেনারসি শাড়ির দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশে বিয়ে ও উৎসবের সময় ব্যাপক চাহিদা থাকা এ শাড়ির বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
এই শিল্পের জন্য সর্বশেষ ধাক্কা এসেছে আগেই। পূর্ববর্তী সরকারি নীতিমালা ছাড়াও রয়েছে পশ্চিম ভারতের গুজরাটের সুরাটে উন্নত পাওয়ার লুমে তৈরি শাড়ির সঙ্গে সস্তা প্রতিযোগিতা। গত কয়েক বছরে এ আক্রমণ আরো বেড়েছে। ফলে তাঁতিরা ব্যবসা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।
বারাণসীর পাইকারি শাড়ি ব্যবসায়ী ৬১ বছর বয়সি পবন যাদব আলজাজিরাকে বলেছেন, ঢাকার সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনের পর থেকে ব্যবসা স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বার্ষিক প্রায় ১০ হাজার শাড়ি সরবরাহ করতেন।
কিন্তু সবকিছুই বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবেশী দেশটির ক্রেতাদের কাছে এখনো তার ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন রুপি বা ১৭ হাজার ১৪০ ডলার পাওনা রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাওনা অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, টানা তৃতীয়বারের মতো মোদিকে সংসদে নির্বাচিত করা বারাণসীর তাঁতি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, তিনি যেন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সমস্যার একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করেন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?