কবি নজরুল কলেজ প্রতিনিধি :
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ধীরে ধীরে এই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন রূপ নেয় সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে। নিপীড়ন-নির্যাতন সইতে না পেরে রাজপথে নেমে আসে দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষ।
২৪-এর এই গণঅভ্যুত্থানে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অনন্য। স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে শহীদ হয়েছে কলেজের ৪জন সাহসী শিক্ষার্থী। এছাড়া এই গণঅভ্যুত্থানে জীবন বাজি রেখেছিল কলেজের অসংখ্য শিক্ষার্থীরা।
শরীরের ৮০ শতাংশ থেঁতলে অর্ধমৃত অবস্থায় বস্তার মতো রাস্তায় ফেলে রাখে,মোবাইল চেক করে কলার ধরে রড, লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করেছে।
কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের ২নং যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ কামরুল ইসলাম কানন বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ৯০-এর স্বৈরাচার ও ২৪-এর স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।
শুরু থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদল নেতারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। ১৬ জুলাই নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে যাওয়ার পথে আমরা কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী জিরো পয়েন্টে আন্দোলনকারীদের সাথে অবস্থান কর্মসূচি ও প্লেকার্ড প্রদর্শন করি।
তিনি বলেন, কাকরাইল মোড়ে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর জানতে পারি, কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন সহযোদ্ধা শহীদ মিনারে অবস্থান করছে এবং সেখানে আন্দোলনকারীরা মিছিল করবে। বাদ-বিপত্তি পেরিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে শহীদ মিনারে পৌঁছাই।
সেদিন চানখারপুল মোড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, যা সকলের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাই মিছিল শেষে সিদ্ধান্ত হয় আমরা কিছুটা দূরত্ব রেখে একে একে বের হবো। একুশে হলের সামনের রাস্তা ধরে ফ্লাইওভারের পাশ দিয়ে বঙ্গবাজারের দিকে যেতেই দেখি ২০-২৫ জন লোহার রড-পাইপ হাতে দাঁড়িয়ে আছে।
আমাকে দেখেই কয়েকজন ঘিরে ফেলে । কোথা থেকে এসেছি জানতে চাইলে বললাম হাসপাতাল থেকে। পরে ওরা আমার মোবাইল চেক করে। গ্যালারি, ম্যাসেঞ্জার চেক করেই কলার ধরে রড, লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করা শুরু করলো। মুহুর্তেই উপস্থিত সকলে হামলে পড়লো আমার উপর।
পা জড়িয়ে ধরে আকুতি মিনতি করেও রেহাই পাইনি ,শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ মাংস থেঁতলে দেয়। হাতের কবজি, আঙ্গুল, বাম পায়ের মাংসপেশি থেতলে অর্ধমৃত অবস্থায় বস্তার মতো রাস্তায় ফেলে রাখে আমাকে।
তিনি আরও বলেন , একজন রিক্সাওয়ালাকে অনুরোধ করলে তিনি বস্তার মতো উঠিয়ে পা রাখার স্থানে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে এক্স-রে করানো হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে যাওয়ায় আমাকে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানেও পুলিশের গ্রেফতার আশঙ্কা থাকায় শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. আমান উল্লাহ আমান ভাইয়ের ব্যক্তিগত মেডি এইড জেনারেল হাসপাতাল এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আমার পায়ে প্লাস্টার ও ব্যান্ডেজ করা হয় এবং জানানো হয় ২১ দিন পর তা খোলা হবে। সময়টা এতই কষ্টের ছিল ভাষায় প্রকাশের মতো নয়।
দেশ সংস্কার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আপনি, আমি সংস্কার হওয়া:
কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আশিকুর রহমান সরল বলেন, এই জুলাই বিপ্লবের প্রাণ ছিল বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থীরা। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ।
জুলাইয়ের শুরুতে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্লোগান শুরু হলো কোটা না মেধা, কোটা না মেধা, মেধা মেধা, যা দ্রুত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে৷ একে একে ঢাকা শহরের প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শাহবাগে জড় হয়৷ শুরু হয় বাংলা ব্লকেড যা একপর্যায়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে৷ ১৫ জুলাই ছাত্রলীগ ও পুলিশের অতর্কিত হামলায় আহত হয় শত শত শিক্ষার্থী। ১৬ জুলাই ইতিহাস দেখেছে এক কালো দিন শহীদ হন আবু সাঈদ। তবুও আমরা পিছু হটিনি।
তিনি বলেন, ১৯ জুলাই ২৪ শুক্রবার, আন্দোলন তখন সর্বোচ্চ তীব্র আকার ধারণ করেছে। সকালে সহপাঠীদের সঙ্গে পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও কবি নজরুল কলেজের সামনে অবস্থান নেই। বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা হয় আমাদের, সেদিন জবি সমন্বয়ক নুর নবীকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
আমাদের গুলি করতে করতে বাংলা বাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত নিয়ে যায়। জুমার নামাজের পর সিনিয়রদের পরামর্শে লক্ষীবাজারে অবস্থান নিই,সেখানে তখন হাজার হাজার মানুষ। পুরো এলাকা গর্জে ওঠে খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগানে।
একপর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও ছিটকা গুলিতে হামলা চালায়। তবু আমরা রাজপথ ছাড়িনি।বিকেলে হঠাৎ পুলিশ আমাদের দিকে ভারী অস্ত্র ছুড়তে থাকে। আমার সম্মুখপানে একটি টিয়ারশেল পড়ে পুরো দুনিয়াটা অন্ধকার হয়ে যায়।
আমার চিৎকারের শব্দ শুনে কেউ আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় রসের গলিতে।আমার পাশে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছে রাস্তায়,চারপাশে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। হয়তো হায়াত থাকায় আমি ওই মৃত্যুর খুব কাছে থেকেও বেঁচে গিয়েছি।
কিন্তু সেদিন আমি আমার প্রাণ প্রিয় বন্ধু কাউসার কে হারিয়েছি। তাকে এমন ভাবে গুলি করে তার মাথায় লেগে মগজ গুলো ছিন্ন হয়ে পড়ে ছিলো রাস্তায়। এতটা নিষ্ঠুর ছিল সেই সময়, বন্ধুর নিথর দেহ জড়িয়ে কান্না করারও সুযোগ পাইনি।
পরদিন যখন হাসপাতালে তার মরদেহ নিতে যাই, সেখানেও পুলিশের বাধা। বারবার মনে হয়েছে, একই দেশের মানুষ হয়ে আমরা এত নিষ্ঠুর কীভাবে হতে পারি? সেই ভয়াল দিন ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) আল্লাহর রহমতে মরতে মরতে বেঁচে যাই। ফজরের সালাত শেষে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রওনা করি, নানা কৌশলে পৌঁছি ঢাকা মেডিকেলে পর্যন্ত।
সেখানে হাজারো শিক্ষার্থীর সঙ্গে একদফার মিছিলে যোগ দিই। ঢাবির দিকে যেতেই পুলিশ কোনো কথাবার্তা ছাড়াই গুলি চালাতে শুরু করে। চোখের সামনে অর্ধশত তাজা প্রাণ ঝরে যায়। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসি।তবে একটি কথা না বললেই নয়, এদেশের সাধারণ জনতার সহযোগিতা কোন দিন শোধ করতে পারবো না আমরা৷ সর্বশেষ দুপুর ১২টায় শাহবাগে অবস্থান নেয়, এবং বিজয় মিশিলের স্লোগানে স্লোগানে গণভবনে গিয়ে তা উল্লাস করি৷
যাইহোক সবার প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি কইরেন না৷ যে রক্তের উপর দাড়িয়ে আছেন সেই রক্তে না হয় ভেসে যাবেন৷ আর রাষ্ট্রের প্রতি চাওয়া শহীদ পরিবারের প্রতি যত্ন এবং আহত ভাইদের প্রতি যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন৷ কোটা এবং দেশ সংস্কার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আপনি, আমি সংস্কার হওয়া৷
পুলিশের বন্দুক তাক করা, চোখে চোখ পড়লেই সন্দেহ:
কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক জামাল খান বলেন, জুলাই বিপ্লব আমাদের দিয়েছে বাকস্বাধীনতা ও কথা বলার অধিকার। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট হাসিনার দখলদারিত্ব থেকে দেশের মানুষ পেয়েছে মুক্তি।
এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে আমাদের হাজারো ভাই-বোন। ছাত্রদল কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল দিয়ে আমাদের জুলাই আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ। এর আগে আমরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছি কখনো পানি কখনো খাবার দিয়ে । প্রথমে আমরা কবি নজরুল ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আন্দোলনে যায়,কিন্তু এই এলাকা আমাদের জন্য নিরাপদ ছিল না।
তিনি বলেন, ছাত্রদল প্রথম ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় । শান্তিনগরে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক ফাহিম ভাইয়ের সাথে মিছিলে অংশগ্রহণ করি। দ্বিতীয় মিছিল ফকিরাপুল এলাকা যেতেই আমাদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছুড়লে পুলিশের সাথে কিছুক্ষণ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
ইট দিয়ে গুলির মুখোমুখি সম্ভব না দেখে আশ্রয় নেই পাশের কলোনিতে বাসায়। সে বাসা থেকে বের হয়েই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মিছিলের সামনে সেদিন কোনমতে দেয়াল টপকে প্রাণ বাঁচায়। ১৯ জুলাই ছিল এক বিভীষিকাময় দিন। চোখের সামনে একদিনেই চারজন সহযোদ্ধা শহীদ হন, গুলিবিদ্ধ হয় আরও অনেকেই।
আমার পাশ ঘেঁষে ছুটে যাওয়া গুলিতে একজনের মাথার খুলি উড়ে যায়, মগজ ছিটকে পড়ে রাস্তায়। আরেকটি গুলি আমার পাশ দিয়ে গিয়ে আরেক সহযোদ্ধার বুক ভেদ করে বেরিয়ে যায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি সেদিন প্রাণে বেঁচে যাই।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আন্দোলনের নির্দিষ্ট কোনো স্থান ছিল না। সারা রাজধানীই ছিল আমাদের যুদ্ধক্ষেত্র। সরকার গ্রেপ্তার, নিপীড়ন ও তল্লাশি চালালেও আমরা পিছু হটিনি। ২৬ জুলাই আমার সহযোদ্ধা কলেজ শাখা ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক ইরফান আহমেদ ফাহিম ভাইকে লক্ষীবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন কোর্টে তোলা হলে চারপাশে ছিল থমথমে নিস্তব্ধতা, আতঙ্ক ও চাপা কান্নার শব্দ। একে একে সহযোদ্ধাদের আদালতে আনা হচ্ছিল তাদের ওপর চালানো নৃশংস নির্যাতনের দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক। পুলিশের বন্দুক তাক করা, চোখে চোখ পড়লেই সন্দেহ, প্রতিটি মুহূর্ত ছিল ভয়াবহ।
শহীদ ভাইদের নিথর দেহ হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়ার সৌভাগ্য হয়; এই স্মৃতিগুলো যেকোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর প্রেরণা:
কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুল বান্না জিসান বলেন, বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে এক কাতারে এসে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত বছরে জুলাই অভ্যুত্থানে। এ অভ্যুত্থানে সরাসরি অংশগ্রহণ করার সুযোগ আমি পেয়েছি। প্রত্যক্ষ করেছি স্বৈরাচারের চূড়ান্ত হিংস্র রুপ।
তিনি বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকে সাংগঠনিক নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মিছিল, অবস্থান কর্মসূচিতে যুক্ত হই। পরবর্তীতে খুনি হাসিনা কর্তৃক শিক্ষার্থীদের রাজাকার সম্বোধনের পর দেশব্যাপী আন্দোলন মজবুত হয়।
১৫ জুলাই, ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা করলে তৎকালীন ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আবির ভাইয়ের নির্দেশে স্ট্যাম্প নিয়ে জনশক্তি সহ একুশে হলের সামনে অবস্থান নেই৷ পরবর্তীতে আমরা মিছিল নিয়ে শহীদুল্লাহ হলের সামনে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের প্রেস ব্রিফিং এর ব্যবস্থা করে দেই।
তিনি আরও বলেন,পরদিন, দুপুরে আমাদের মিছিল শুরু করার পূর্বে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার উপর নির্মম হামলা চালায়। এরপর থেকে বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন সাংগঠনিক নির্দেশে বিভিন্ন স্পটে আন্দোলনে যুক্ত হই। কখনো কাজলা, যাত্রাবাড়ী আবার কখনো শহিদ মিনার, শাহবাগ।
এভাবেই চলতে থাকে রাজপথের উত্তাল দিনগুলো। যাত্রাবাড়ী এরিয়াতে আমাদের অনেক শহীদ, গাজী ভাইদের নিথর দেহ হাসপাতাল পর্যন্ত নেওয়ার মতো সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। সেই স্মৃতিগুলো এখনো আমাকে যেকোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর প্রেরণা যোগায়।