প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যুক্তরাজ্য সফরের প্রাক্কালে টিউলিপ সিদ্দিকের চিঠি নিয়ে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উত্তপ্ত আলোচনা ছড়ালেও তার কোনো সত্যতা নেই বলে জানালেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। রোববার (৮ জুন) বিকেলে শফিকুল আলম স্পষ্টভাবে বলেন,
“আমরা টিউলিপ সিদ্দিকের কোনো চিঠি পাইনি। ৫ জুন থেকে আমরা ছুটিতে আছি।”
উল্লেখ্য, ৯ জুন সোমবার লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। তিনি ১৪ জুন দেশে ফিরবেন। সফরকালে ১১ জুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং ১২ জুন রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সেন্ট জেমস প্যালেসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
এর আগেই যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা The Guardian–এ এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টার এবং শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক একটি চিঠির মাধ্যমে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, টিউলিপ তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে ‘ভুল বোঝাবুঝির অবসান’ ঘটাতে চান।
তবে একইসঙ্গে গার্ডিয়ানের ওই প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক ও তার মায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে প্রভাব খাটিয়ে ৭ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি প্লট আত্মসাৎ করার অভিযোগ তদন্তাধীন। এসব অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়াও ২০২3 সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর টিউলিপের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
টিউলিপের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করলেও, ঢাকায় শুরু হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় তার নাম ঘিরেও চলছে বিতর্ক। শেখ রেহানার কন্যা হিসেবে টিউলিপ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার এবারের সফরে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে এখন পর্যন্ত টিউলিপের চিঠি না আসা কিংবা সেটি গ্রহণ না করা—একইসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে গার্ডিয়ান রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা ও টিউলিপের উদ্দেশ্য নিয়েও।
এই সফরে ড. ইউনূস ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব ডেভিড ল্যামিসহ রাজনীতিক, কূটনীতিক এবং ব্রিটিশ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। তবে এই সফরের সর্বাধিক নজর থাকবে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থের ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রয়াসের ওপর। অনেকেই মনে করছেন, নির্বাচিত সরকার গঠনের আগে এমন কূটনৈতিক আলোচনা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়।