ভারতের সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত ওয়াক্ফ আইন বাতিল এবং দেশটিতে মুসলিম নির্যাতন বন্ধের দাবিতে আগামী ২৩ এপ্রিল ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে গণমিছিল ও স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে সাভারের জাতীয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা জামে মসজিদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা জেলা (উত্তর) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী।
তিনি বলেন,
“ভারতে বিজেপির নেতৃত্বে মুসলমানদের ওপর একের পর এক নিপীড়ন চলছে। হিটলারের কায়দায় মুসলিম নিধনের ষড়যন্ত্র চলছে। নতুন ওয়াক্ফ আইনের মাধ্যমে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের মতো পবিত্র ইসলামি সম্পদ হরণ করা হচ্ছে। এই আইনের প্রতিবাদ করায় সেখানে মুসলমানদের ওপর চরম দমন-পীড়ন নেমে এসেছে। প্রতিবেশী হিসেবে ভারতের নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ইমানি, নৈতিক এবং জাতীয় দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন,
“২৩ এপ্রিলের গণমিছিল আমাদের ঈমানের পরীক্ষার দিন। যেকোনো অবস্থাতেই এই কর্মসূচিকে সফল করতে হবে। ভারতের সরকারের এই ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে জোরালো প্রতিবাদ পৌঁছে দিতে হবে।”
ভারতের বিতর্কিত ‘ইউনিফায়েড ওয়াক্ফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট’ সম্প্রতি দেশটির সংসদে পাস হয়, যার মাধ্যমে মুসলিম ওয়াক্ফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রীয়ভাবে সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। মুসলিম সংগঠনগুলো বলছে, এই আইনের মাধ্যমে মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্পদ হরণ করে মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন কাসেমী। আরও বক্তব্য দেন মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, মাওলানা ফজলুর রহমান, মুফতি মাহফুজ হায়দার ও মুফতি ফারুক হোসাইন।
বক্তারা বলেন, “ভারত যে পথে হাঁটছে, তা শুধু দেশটির সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য নয়, গোটা উপমহাদেশের জন্য বিপজ্জনক। সেখানে এখন ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে বন্দি করা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে বসে নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকা চলবে না।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও ছাত্র-তরুণ সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, ২৩ এপ্রিল সকালে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে গণমিছিল শুরু হয়ে শাহবাগ ও কারওয়ান বাজার হয়ে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হবে এবং পরে হাইকমিশনের প্রতিনিধির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের কর্মসূচি একদিকে যেমন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের একটি বার্তা বহন করে, অন্যদিকে আঞ্চলিক সম্পর্কেও চাপ তৈরি করতে পারে। সরকারপক্ষ এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
বর্তমানে ভারতজুড়ে এই আইনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, উত্তর প্রদেশ ও দিল্লিতে। মুসলিম সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আইনটিকে সংবিধানবিরোধী ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করছে।
বাংলাদেশে ভারতের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কতটা রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক প্রভাব ফেলবে তা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে আগামী ২৩ এপ্রিলের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সজাগভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?