বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বর্তমানে লন্ডনে বড় ছেলে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) লন্ডন থেকে টেলিফোনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।
অধ্যাপক জাহিদ হোসেন বলেন, “বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ বলা যাবে না। তবে যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেকটাই ভালো আছেন।”
বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চাওয়া থাকলেও খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। “লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা যখন মনে করবেন, তিনি ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত, তখনই তিনি দেশে ফিরবেন, ইনশাআল্লাহ,” বলেন বিএনপির এই শীর্ষ চিকিৎসক।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন পর পরিবারের সান্নিধ্যে এসে খালেদা জিয়ার মানসিক প্রশান্তি বেড়েছে। সাত বছর পর বড় ছেলে তারেক রহমান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনিদের কাছে পেয়ে তিনি কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। এই মানসিক প্রশান্তিও তাঁর শারীরিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডন যান খালেদা জিয়া। সেখানে পৌঁছে তাঁকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল এবং তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি না দেওয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করছিল দলটির নেতারা।
বিএনপি নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারা দলের জন্য আশার আলো। তবে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে চাইলে সরকার নতুন কোনো ষড়যন্ত্র করতে পারে। বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, “সরকার শুরু থেকেই চেয়েছে আমাদের নেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে। এখন তিনি সুস্থ হয়ে দেশে ফিরলে আবারও তাঁকে আটকে রাখার জন্য নানা ফন্দি আঁটা হতে পারে। তবে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের নেত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।”
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের এখতিয়ার। সরকার এই বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “বিএনপি সবকিছুতে ষড়যন্ত্র খোঁজে। খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশ গেছেন, এটা সরকারের উদারতার প্রমাণ। কিন্তু বিএনপি এটাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।”
খালেদা জিয়ার সুস্থতা নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দেশে ফেরার সময় নিয়ে এখনো নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি দেশে ফিরলে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। এখন অপেক্ষার বিষয়, চিকিৎসকরা কখন তাঁকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর প্রত্যাবর্তন কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।