১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে আহত মাহবুব আল-হাসান মুন এখনও শরীরে ১৫০টি গুলি বহন করে চলেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো প্রয়োজন। তবে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে এতদিনেও সে সুযোগ মেলেনি।
মুন জানান, সেদিন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে ছাত্রদের মিছিল চলছিল। মিছিলে সামনের সারিতে থাকার কারণে পুলিশের আক্রমণের শিকার হন তিনি। যখন পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে, তখন তিনি কিছুটা পিছিয়ে যান, কিন্তু পরক্ষণেই আবার সামনে আসেন। ঠিক তখনই একসঙ্গে তার শরীরে গুলি চালানো হয়। তিনি বলেন, “গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও দেখতে পাই, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ও পুলিশের লাঠিচার্জে আবু সাঈদকে নির্মমভাবে পেটানো হচ্ছে।”
গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার শরীরে ২০০টির বেশি গুলি ছিল। ডাক্তাররা ৪০টি গুলি বের করলেও, এখনও ১৫০টি গুলি মাথা, মুখ, নাক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “তীব্র মাথাব্যথা হয়, শরীরে সবসময় ব্যথা অনুভব করি, ঘুমাতে পারি না। মাঝে মাঝে জানা জিনিসও ভুলে যাই।” চিকিৎসকরা বলছেন, এসব গুলি অপসারণ করতে উন্নত চিকিৎসা দরকার, যা কেবল বিদেশেই সম্ভব।

মুন নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার এক কৃষক পরিবারের সন্তান। বাবা মো. আব্দুল খালেক একজন কৃষক এবং মা মোছাম্মৎ মুন্নী বেগম গৃহিণী। পরিবারের স্বল্প আয়ের মধ্যেও মুন ভালোভাবে লেখাপড়া করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চেয়েছিলেন। ২০২২ সালে রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
মুনের বাবা আব্দুল খালেক সরকারের কাছে তার ছেলের চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে বলেন, “চার লাখ টাকা চিকিৎসায় খরচ হয়েছে, কিন্তু কোনো সহায়তা পাইনি। আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যেন তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।” একই দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যারা দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এই তরুণের মতো আরও অনেকে ১৬ জুলাই পুলিশের দমনপীড়নের শিকার হয়েছেন। এখন প্রশ্ন, মুনের মতো আহতদের দায়িত্ব কে নেবে? সরকারের কি কোনো ভূমিকা থাকবে? নাকি তিনি চিরদিনের জন্য এই কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকবেন? তার সুস্থতা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি, আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই কেটে যাচ্ছে তার দিনগুলো।