মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

ইসলামে তালাকপ্রাপ্তা নারীদের ফিরে আসার বিধান।

ইসলামে বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন বলা হয়। তাই বিবাহ বিচ্ছেদকে সর্বশেষ উপায় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো যৌক্তিক কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ অবধারিত হলে, ইসলাম তালাকের নির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। যখন কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তখন স্ত্রীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজেকে ঘরে আবদ্ধ রাখতে এবং অন্যত্র বিয়ে করা থেকে বিরত থাকতে হয়। এই […]

নিউজ ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৫৬

ইসলামে বিবাহকে একটি পবিত্র বন্ধন বলা হয়। তাই বিবাহ বিচ্ছেদকে সর্বশেষ উপায় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো যৌক্তিক কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ অবধারিত হলে, ইসলাম তালাকের নির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।

যখন কোনো বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তখন স্ত্রীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিজেকে ঘরে আবদ্ধ রাখতে এবং অন্যত্র বিয়ে করা থেকে বিরত থাকতে হয়। এই সময়কালকে ইদ্দত বলা হয়। ইদ্দতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে,সেই সম্পর্কে আজ আমরা জানবো ইনশাআল্লাহ ।

কোনো স্ত্রীকে যদি কোনো স্বামী তালাক প্রদান করে তবে ওই স্ত্রীর করণীয় সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা তা কুরআনুল কারিমে বিষদ বর্ণনা করেছেন। তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই স্ত্রীর অন্য কোথাও বিয়ে হওয়া বা তালাক প্রদানকারী স্বামীর নিকট পুনরায় ফিরে আসা বিষয়গুলো প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ
أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

 

যে নারীদের তালাক দেওয়া হয়েছে, তারা তিন বার হায়েয আসা পর্যন্ত নিজেদেরকে প্রতীক্ষায় রাখবে। আর তারা যদি আল্লাহ ও শেষ দিবসে ইমান রাখে, তবে আল্লাহ তাদের গর্ভাশয়ে যা-কিছু (ভ্রূণ বা হায়য) সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করা তাদের পক্ষে বৈধ হবে না।

তাদের স্বামীগণ যদি পরিস্থিতি ভালো করতে চায়, তবে এ মেয়াদের মধ্যে তাদেরকে (নিজেদের স্ত্রীত্বে) ওয়াপস গ্রহণের অধিকার তাদের রয়েছে। আর স্ত্রীদেরও ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের প্রতি (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে। অবশ্য তাদের উপর পুরুষদের এক স্তরের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আল্লাহ পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।

আয়াত নাজিলের কারণ

সুরা বাকারার ২২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের পর করণীয় ও আবার উভয়ে সংসার করতে চাইলে করণীয় নির্ধারণের আলোচনা করা হয়েছে।

আল্লামা তকী ওসমানি এ আয়াতের তাফসিরে লিখেছেন, ‘মূলত স্ত্রীর কর্তব্য হলো তার প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করা। যদি সে তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার সময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে থাকে তবে তা প্রকাশ করা ও সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত অন্য কোথাও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকা।

আর যদি তার গর্ভে সন্তান না থাকে তবে তালাক পরবর্তী তিন (হায়েজ) মাস ঋতুস্রাব হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন অর্থাৎ অপেক্ষা করা।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ‘এ আয়াত শুধু ওই সব স্বামী ও স্ত্রীদের জন্য প্রযোজ্য, যারা বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সহবাসে মিলিত হয়েছে,যাদের ঋতুস্রাব (মাসিক) হয় এবং যারা কারও ক্রীতদাসী নয়।

কারণ, ‘যদি বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী সহবাসে মিলনের আগেই তালাক সম্পাদন হয়; এমন স্ত্রীলোকদের জন্য ইদ্দত (তিন মাস অপেক্ষা) পালন করতে হয় না।

তাছাড়া যদি কোনো স্ত্রী লোকের বার্ধক্যের কারণে অথবা নিতান্ত অল্প বয়স্কা নারী হওয়ার কারণে যদি তাদের ঋতুস্রাব (হায়েজ) না হয় তবে তাদের ইদ্দত (অপেক্ষার সময়) হলো তিন মাস।

আর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীলোক; তালাকের আগেই যাদের গর্ভে সন্তান চলে এসেছে, তাদের ইদ্দত (অপেক্ষার সময়) হলো সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত।

উক্ত আয়াতে আরও বলা হয়েছে – কোনো স্ত্রীকে তালাক প্রদানের পর স্বামী যদি তাকে পুনরায় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চায় এবং দাম্পত্য জীবনকে সুন্দর ও উত্তমরূপে যাপন করতে অঙ্গীকার করে তবে পুনরায় ওই স্ত্রীকে গ্রহণের স্বামীর অগ্রাধিকার রয়েছে। পক্ষান্তরে যদি কোনো স্বামী নির্যাতনের লক্ষ্যে পুনরায় স্ত্রীকে গ্রহণ করে তবে তা হবে জুলুম।

অতঃপর উক্ত আয়াতাংশে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘স্ত্রীদের ওপর স্বামীর যেমন হক আছে, ঠিক তেমন স্বামীর ওপরও স্ত্রীর হক রয়েছে।’

পরস্পরের প্রতি পরস্পরের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তা সঠিকভাবে যদি পালন করা হয়, তবে দাম্পত্য জীবন হবে সুখ ও শান্তিময়। পাশাপাশি আল্লাহ তায়ালা সংসার পরিচালনায় স্বামীকে যে উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেছেন, তাকে আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

ইসলামে স্বামীকে তার স্ত্রীর প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিস শরিফে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সে ব্যক্তি যে তার পরিবারবর্গের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে আর আমি তোমাদের চেয়ে অধিকতর ভাল ব্যবহার করি আমার পরিবারবর্গের সঙ্গে’।

আল্লাহ তায়ালা সকলকে কুরআনের বিধান অনুযায়ী সুখ ও শান্তিময় দাম্পত্য জীবন যাপনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

 

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।