এনসিপি নেতা আখতার হোসেন কৃষকের সন্তান, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান একজন শ্রমিকের সন্তান, এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ রাজমিস্ত্রি পরিবারের সন্তান এবং আমিও শ্রমিক পরিবার থেকে এসেছি। আমার চাচাতো ভাই রিকশা চালায়। আমরা সেই পরিবার থেকে আজকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ।
শুক্রবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় শ্রমিক শক্তি আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, বারবার রাষ্ট্রের ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, কিন্তু শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। রাজনীতিবিদদের ভাগ্যের পরিবর্তন হলেও শ্রমিকের হয় না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক প্রতিনিধি এবারের সংসদে আছে। এই সংসদ তারুণ্য ও শ্রম রাজনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেখানে আপনাদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
হান্নান মাসউদ বলেন, এক শ্রেণির লোক আমাদের দেশটাকে লুট করে খাচ্ছে। এই টাকা তারা যদি আয় করে দেশে রাখত, তবে সমস্যা ছিল না। কিন্তু উপমহাদেশের মধ্যে কানাডার বেগম পাড়ায় সবচেয়ে বেশি ঘরবাড়ি বাঙালিদের। যখন যারা ক্ষমতায় আসে, তারা নিজেদের সাধু দাবি করে। আওয়ামী লীগ এলে বলে তারা চুরি করে না, বিএনপি এলে তারাও বলে চুরি করে না, জাতীয় পার্টিও বলে চুরি করে না; তাহলে চোর কে?
তিনি বলেন, বাংলাদেশের যত আইন, তার সবই খেটে খাওয়া নিপীড়িত মানুষের জন্য। কোনো আইন বড়লোকদের জন্য নয়। বনানী বা গুলশানে থাকা মানুষদের জন্য যে আইন প্রযোজ্য হয় না, আমাদের ৫-১০ হাজার টাকা বেতনে থাকা শ্রমিকদের জন্য সেই সব আইন বলবৎ থাকে।
একজন রাজনীতিবিদ যেভাবে ন্যায়বিচার পাবেন, একজন শ্রমিককেও সেভাবে ন্যায়বিচার পেতে হবে। এসব কথা বললে আমাদের বলা হয়, এর চেয়ে ভালো আইন করে দেওয়া হবে। এভাবে স্বপ্ন দেখাতে দেখাতে ৫৪ বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু আমাদের একটি ভালো আইন দিতে পারে নাই।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার জন্য একজন অর্থনীতিবিদকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে চেয়েছিলাম।
কিন্তু দেখলাম, এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয় গার্মেন্টস পণ্য আমদানি-রপ্তানির মাধ্যমে। সেই অর্থ পাচারের এক প্রতিনিধিকে এনে আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের ইস্যুতে হান্নান মাসউদ বলেন, অনেক বাবা-মায়ের সন্তান বিদেশে গিয়ে শ্রম দেয়, টাকা পাঠায়। আর এ দেশের দুর্নীতিবাজরা তা লুটপাট করে খায় এবং তারাই সংসদে গিয়ে বড় বড় কথা বলে। যারা জনগণের ১১ হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছে, তারা যখন সংসদে এসে বড় বড় কথা বলে, তখন আমাদের লজ্জা লাগে।