মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে একটি মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারের ভেতরে ঢুকে এক যুবকের ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম এবং সিসি ক্যামেরার ডিভিআর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মশিউর রহমান জিসান (২৭) এ ঘটনায় শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে শ্রীনগর উপজেলার জশুরগাঁও এলাকায় লাল গোলাপ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে একটি মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টারের অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন জিসান। এ সময় কাগজপত্রবিহীন একটি মোটরসাইকেলের সার্ভিসিংকে কেন্দ্র করে সাকিব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে সার্ভিসিং সেন্টারের মালিকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে জিসানের সঙ্গে সাকিবের কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর কিছুক্ষণ পর সাকিব মোবাইল ফোনে সহযোগীদের ডেকে আনে। পরে শামীম হোসেন সাদ্দাম, জাবির, রোমান, রতনসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সার্ভিসিং সেন্টারের ভেতরে ঢুকে জিসানের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাঠিসোটা ও লাথি মারতে থাকে। এ সময় রোমান নামে এক ব্যক্তি সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে মাথার তালুতে গুরুতর কাটা জখম হয়। এছাড়া আরেক হামলাকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাত ঠেকাতে গিয়ে জিসানের ডান হাতের আঙুলেও কাটা জখম হয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা জিসানকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় তারা সার্ভিসিং সেন্টারের সিসি ক্যামেরার ডিভিআর খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ হাজার টাকা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত জিসানকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শামীম হোসেন সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ শহরে সংঘটিত ডিপজল সরদার হত্যা মামলারও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে শ্রীনগরের কয়কীত্তর্ণ এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে চাঁদা দাবির ঘটনায় গুলিবর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল মিঞা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মূল অভিযুক্তসহ সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”