বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট গতকাল ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায়—আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা কয়লার ঘাটতি ও সীমিত গ্যাস সরবরাহের সংকট জর্জরিত দেশের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ […]

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

নিউজ ডেস্ক

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬

ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট গতকাল ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায়—আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা কয়লার ঘাটতি ও সীমিত গ্যাস সরবরাহের সংকট জর্জরিত দেশের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, গতকাল রাত ১টায় কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৬৪ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিড বর্তমানে চরম চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫,০০০ মেগাওয়াটের ‘পিক ডিমান্ড’ বা সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ১টায় ১৫,২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩,১৯৮ মেগাওয়াট।

গ্রীষ্মের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুৎ সংকটের এই প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট ঘাটতি—যা গত সোমবারের পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি—সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিদ্যুৎ খাতের ক্রমাগত লড়াইকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্পোৎপাদন ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে গ্রামীণ জনপদগুলো সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউটের শিকার হচ্ছে।

অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের মাত্রায় বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। গাজীপুরে লোডশেডিংয়ের হার ২৮ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও, সাভারে তা ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সিলেটে প্রায় ৪০ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে কয়েকবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, আর গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের স্থায়িত্ব দাঁড়াচ্ছে সাত থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের ‘এয়ার প্রি-হিটার’ সংশ্লিষ্ট বিয়ারিংয়ের সমস্যার কারণে ইউনিট-১ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এয়ার প্রি-হিটার বিয়ারিংয়ে কম্পন (ভাইব্রেশন) বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আদানি আমাদের অবহিত করেছে যে ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।”

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য বলছে, পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই আদানির সরবরাহ ১,১০৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিল এবং রাত ২টার দিকে তা আরও কমে ৭৬৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়, কারণ বর্তমানে সেখানে মাত্র একটি ইউনিট সচল রয়েছে।

গতকাল দিনের বেলা সর্বোচ্চ চাহিদা ১৫,৪৫০ মেগাওয়াট প্রাক্কলন করা হলেও— উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩,১১২ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,৩৩৮ মেগাওয়াটেরও বেশি। বিপিডিবি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, আদানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

চাপে এপ্রিল-মে মাসের উৎপাদন পরিকল্পনা

গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে, বিপিডিবি এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে ১৭,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী—৫,৬০০ মেগাওয়াট গ্যাস থেকে, ৬,০০০ মেগাওয়াট কয়লা থেকে, ১,৪৩৫ মেগাওয়াট আদানি পাওয়ার থেকে, ৩,৫০০ মেগাওয়াট তরল জ্বালানি এবং প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি আমদানির মাধ্যমে আসার কথা ছিল।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে সক্ষমতার অনেক নিচে কাজ করছে। বিপিডিবির তথ্যানুসারে, ২১ এপ্রিল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক প্রায় ৮৯১.৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি), যা দিয়ে ৪,৬০০ থেকে ৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

যদিও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ১১,০০০ মেগাওয়াট, বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রকৃত উৎপাদন কদাচিৎ ৫,০০০-৫,১০০ মেগাওয়াট ছাড়ানো সম্ভব হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত ১০০-১৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেলে উৎপাদন ৬,০০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব, তবে বর্তমান সংকটের মধ্যে গ্যাসের এই সরবরাহ পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত।

কয়লা সংকটে জর্জরিত কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো

কয়লা সংকটের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও চাপের মুখে রয়েছে। আগের পরিকল্পনায় কয়লা থেকে ৬,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও—প্রকৃত উৎপাদন ৪,৫০০ থেকে ৪,৬০০ মেগাওয়াটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গতকাল বিকেল ৪টায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন ছিল ৪,৬০৫ মেগাওয়াট।

চলতি এপ্রিল মাসের ভ্যাপসা গরমে ১,৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদন কমে যাওয়া— লোডশেডিং সামাল দেওয়ার চেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কয়লা সংকটে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ এবং অন্যটি মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করায়—এটি এখন সক্ষমতার অনেক নিচে চলছে।

বিপিডিবির সূত্রমতে, গ্রীষ্মের চাহিদা মেটাতে এসএস পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হলেও কয়লা সংকটে এটি এখন সক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কর্মকর্তারা জানান, আগামী রোববারের মধ্যে কয়লার নতুন চালান আসার কথা রয়েছে, ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে এর সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এ ছাড়া ১,৩২০ মেগাওয়াট পটুয়াখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট সক্ষমতার নিচে চলছে, যা উৎপাদন করছে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে, ১,২০০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯০০-৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৩,৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিপিডিবি বর্তমানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্যমতে, গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ফার্নেস অয়েল বা এইচএফও-ভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ২,৯৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।

অন্যান্য উৎস ও আমদানি

গতকালকের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মিশ্রণে ছিল গ্যাস থেকে ৫,০৯৬ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে ৪,৫৫৯ মেগাওয়াট এবং ফার্নেস অয়েল থেকে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট। বাকিটা জলবিদ্যুৎ, সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে যোগান দেওয়া হয়েছে।

আদানির বিঘ্নিত সরবরাহ (৭৫১ মেগাওয়াট) ছাড়া গতকাল বিদ্যুৎ আমদানির তালিকায় ছিল এইচভিডিসি লিংকের মাধ্যমে ৯২২ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৮৮ মেগাওয়াট।

গ্যাস ও কয়লা সংকট এবং ফার্নেস অয়েল-ভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে সক্ষমতার তুলনায় কম ব্যবহারের ফলে, বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও প্রকট হওয়ার বিষয়ে বিপিডিবি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে চাহিদা আরও বাড়বে; তাই সারা দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং আদানির ইউনিটটি দ্রুত চালু না হলে— দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে।

জাতীয়

সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না : এডিসি জুয়েল

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।” সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব […]

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।”

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এডিসি জুয়েল। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

এডিসি জুয়েল আরও বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে কড়া নজরদারিতে। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভাষা ব্যবহারের সমালোচনাও করছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করা এবং দুষ্কৃতকারীদের সতর্ক করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেবে না বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।