বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে “শব্দের রাজনীতি” নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এই প্রসঙ্গটি সামনে আনেন।
তিনি দাবি করেন, অতীতে কিছু বিশেষ শব্দ বা ট্যাগ ব্যবহার করে মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের পথ তৈরি করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গী’, ‘রাজাকার’ বা ‘স্বাধীনতাবিরোধী’—এ ধরনের শব্দগুলো শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং কখনো কখনো মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শব্দচর্চা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং প্রকৃত সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।
মিতু আরও বলেন, বর্তমানে রাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গনে এই প্রবণতা আবারও দৃশ্যমান হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তার মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নীতিনির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে মনোযোগ সরে গিয়ে মানুষ শব্দকেন্দ্রিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে।
একজন মা হিসেবে তিনি এই পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং সতর্ক করেন যে, শব্দের অপব্যবহার শেষ পর্যন্ত সহিংসতার দিকে গড়াতে পারে। তাই রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।