পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মাছের ঘেরের লিজ ও দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া চরে এ সংঘর্ষে এক নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত চারজনকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা একটি মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাঙ্গাবালী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মু. সাইদুজ্জামান মামুন খানের বাবা আলম খান প্রায় ১৭ বছর ধরে মাদারবুনিয়া চরের ওই ঘেরটি ভোগদখলে রাখেন। তবে গত ৫ আগস্টের পর স্থানীয় একটি পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে ঘেরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এরই মধ্যে প্রায় দুই মাস আগে আলম খান ঘেরটি এক বছরের জন্য সদর ইউনিয়নের কাজীর হাওলা গ্রামের রত্তন হাওলাদারসহ চারজনের কাছে ‘একসনা’ লিজ দেন। পরবর্তীতে গত ১৯ এপ্রিল লিজগ্রহীতারা রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ একটি মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার আদালতের আশ্রয় নিয়ে ঘেরটির দখল নিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।
সংঘর্ষে জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের শাহ জামাল (৪৫), শেফালী বেগম (৩০), রাজ্জাক শিকদার (৬৫), রহিম খান (৫৫) ও ওহাব মাতুব্বর (৫০) আহত হন। অপরদিকে লিজগ্রহীতা পক্ষের রত্তন হাওলাদার (৫৫) ও মোখলেছুর রহমান (৪৫) আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জমির মালিকানা দাবি করা পক্ষের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী দল লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ঘেরটি দখলের চেষ্টা করে এবং বাড়িঘরেও হামলা চালায়। অন্যদিকে লিজগ্রহীতারা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা বৈধভাবে ঘের লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন, কিন্তু প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক মাছ লুট করেছে এবং তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।