মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রমে ডিজেল সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হতে পারে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক এলাকায় অতিরিক্ত ডিজেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। এতে বোরো চাষের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মুন্সিগঞ্জে ২৪ হাজার ৬১৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া বোরো আবাদ চলবে আগামী ১৪ মার্চ পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি প্রায় ৪ হাজার ৮৮ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলায় মোট ২ হাজার ২০২টি সেচ নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮২১টি ডিজেলচালিত। এসবের মধ্যে ১ হাজার ৮২০টি অগভীর এবং একটি গভীর নলকূপ ডিজেলে চলে। এছাড়া বিদ্যুৎচালিত অগভীর নলকূপ রয়েছে ৩৭৩টি এবং গভীর নলকূপ রয়েছে ৭টি।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় অনেকেই সময়মতো জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের বনসামন্ত গ্রামের প্রবীণ কৃষক লতিফ শেখ বলেন, স্থানীয় পাম্পে ডিজেল না পেয়ে তিনি খোলা বাজার থেকে বেশি দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, “শুক্রবার লিটারপ্রতি ১২০ টাকায় ডিজেল কিনেছি। শনিবার সেই দাম বেড়ে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাম্পে ডিজেল না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।”
তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, জেলায় ডিজেলের কোনো সংকট নেই। মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, বর্তমানে জেলায় মোট ৪৬ হাজার ৮০৯ লিটার ডিজেল মজুত রয়েছে এবং জেলার ১৯টি পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ রয়েছে।
তিনি জানান, লৌহজং উপজেলায় ১১ হাজার লিটার, শ্রীনগরে ৭ হাজার লিটার, টঙ্গিবাড়িতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার লিটার, সিরাজদিখানে ১১ হাজার ৩১৮ লিটার এবং গজারিয়া উপজেলায় ১১ হাজার ৯১১ লিটার ডিজেল মজুত আছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি কৃষি বিভাগ পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি জানান, সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা হবে এবং বোরো আবাদ নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বোরো চাষে যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ডিজেলসহ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।